জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবির মুখে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। খুলনা থেকে আঞ্চলিক রুটে ভাড়া বেড়েছে ২০ থেকে ১০০ টাকা করে। এ নিয়ে সোমবার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। যাত্রীরা বলছেন, যাত্রীদের প্রতিনিধির সঙ্গে সমন্বয় করে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হলে এরকম কোনও সমস্যা হতো না।
সোমবার (৮ নভেম্বর) বরিশাল রুটের ভাটার যাত্রী মশিউর রহমান বলেন, আগে ভাড়া ছিল ২০০ টাকা। এখন নিচ্ছে ৩০০ টাকা। এটা মেনে নেওয়া কঠিন।
গোপালগঞ্জের যাত্রী মাহবুব আলম বলেন, আগে ১০০ টাকায় যাতায়াত করতাম। এখন ২০ টাকা ভাড়া বেড়েছে।
টিকিট ম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার নির্ধারিত নিয়মে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ে ৩৮ টাকা। কিন্তু যাত্রীর কথা বিবেচনায় নিয়ে আমরা ২০ টাকা বেশি নিচ্ছি।
পাইকগাছা রুটের বাসের সুপারভাইজার সঞ্জয় রায় বলেন, আমরা ২০ টাকা ভাড়া বাড়িয়েছি।
রূপসা-বাগেরহাট বাস মিনিবাস মাইক্রোবাস সমিতির সভাপতি নূরুল হক লিপন জানান, তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম নেওয়া হচ্ছে।
খুলনা মোটর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান জানান, করোনায় দেড় বছর বসে থাকায় এই সেক্টর অনেক ক্ষতিগ্রস্ত। এরপরও গাড়ির ট্যাক্স বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তার ওপর তেলের দাম বাড়ে। ভাড়া বৃদ্ধিতে জনগণের ওপর চাপ পড়ছে। তাদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। যেটা আমরা চাই না।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির খুলনা জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম বলেন, গণশুনানি করে অথবা যাত্রীদের প্রতিনিধির সঙ্গে সমন্বয় করে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হলে যাত্রীদের জন্য কল্যাণকর হতো।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) খুলনা বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খোদা জানান, পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ সকল ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে। সবমিলিয়ে চরম বিপাকে পড়বে সাধারণ মানুষ।
উল্লেখ্য, তিন দিন ধরে ধর্মঘটের মুখে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ২৭ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও ডিজেলের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।









