সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে দল তার প্রতি অবিচার করেছে। তবে, তিনি ‘বিএনপিতেই আছেন, বিএনপিতেই থাকবেন’ বলে জানিয়েছেন।
শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এদিন সকালে দলের কেন্দ্রীয় দফতর থেকে তাকে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।
অব্যাহতির বিষয়টি জেনেছেন, জানিয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনায় দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম চলছে, এটা আমি লিখিতভাবেও জানিয়েছিলাম। প্রথমত, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আমার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আমি দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে বিএনপি করি।’
কমিটি গঠনের পর ‘অগ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার’ বিষয়টি উল্লেখ করে নিজের করা সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে মঞ্জু বলেন, ‘অগ্রহণযোগ্য নেতাদের নিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে—আমি সেটি ছোট আকারে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলাম।’
বর্তমান কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে দুর্বৃত্তায়নের প্রসার ঘটেছে বলে মনে করেন সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম।
গত ৯ ডিসেম্বর অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনাকে আহ্বায়ক, তরিকুল ইসলাম জহিরকে ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক ও মো. শফিকুল আলম তুহিনকে সদস্য সচিব করে খুলনা মহানগরীতে নতুন কমিটি করে বিএনপি। প্রায় ২৯ বছর পর নগর কমিটির নেতৃত্ব থেকে ছিটকে পরে ১২ ডিসেম্বর অনুসারীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সেখানে তিনি নতুন কমিটি পুনঃমূল্যায়ন করার আহ্বান জানান। এই সংবাদ সম্মেলনের পরই শোকজ করা হয় তাকে।
বিএনপির সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দল অসততা ও অন্যায়ের দিকে ধাবিত হলো। আমি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনীতি করি। দলের এই দুঃসময়ে দল যেন সঠিক পথে থাকে, সঠিক ধারায় থাকে, সেটাই আমি চাই।’
‘আমি দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে বিএনপি করি। বিএনপির কর্মী আমি। কখনও শৃঙ্খলাভঙ্গ করিনি। দলের সকল কর্মসূচি সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছি। খুলনায় সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সাহসী পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছি।’ উল্লেখ করেন মঞ্জু।
খুলনা অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণনেতা হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অব্যাহতির খবরে বিএনপিতেও ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দলের একজন সিনিয়রনেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দলের শীর্ষনেতৃত্বকে ভুল বুঝিয়ে দলের কেন্দ্রীয় একাধিকনেতা মঞ্জুকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। তার মতে, বিএনপির এই কর্মসূচি চলাকালে মঞ্জুর মতো সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক নেতার অব্যাহতির মধ্যে দিয়ে পুরো দল এমনকি দেশের তৃণমূলে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে। এতে আদতে বিএনপিরই ক্ষতি হলো।
নজরুল ইসলাম মঞ্জুর মত, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি—দল গঠনে তিনি অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিকার পাননি। বরং দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আমি তো কোনও অন্যায় কিছু করিনি। অস্বচ্ছতা, অসততা ও দলের জন্য যা কিছু ভালো মনে হয়েছে, তাই করেছি। এই সিদ্ধান্তের কারণে ভবিষ্যতে নিষ্ঠাবান, ত্যাগী নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হলো, নেতাকর্মীদের আস্থার সংকটও সৃষ্টি হলো।’
দলের অব্যাহতির সিদ্ধান্তে নতুন কিছু চিন্তা করছেন কিনা, এমন প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘আমি বিএনপির কর্মী। বিএনপি ছাড়া কোনও কথা নেই। এখন বিএনপিতে আছি, আগামীতেও বিএনপিতে থাকবো।’
আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুকে অব্যাহতি দিয়েছে বিএনপি









