রেকর্ডভাঙা তীব্র তাপদাহে পুড়ছে পুরো পশ্চিম ইউরোপ। আর এই চরম আবহাওয়ার মধ্যেই সেখানে এসি ব্যবহার করা ভালো নাকি মন্দ, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক যুদ্ধ। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্রান্সের রাজনীতিবিদদের মধ্যে এ নিয়ে তৈরি হয়েছে আদর্শিক বিভাজন।
উগ্র ডানপন্থি নেত্রী মেরিন লে পেন দেশজুড়ে ব্যাপক হারে এসি চালুর পক্ষে সওয়াল করছেন। অন্যদিকে তার বামপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী জঁ-লুক মেলঁশঁ এর তীব্র বিরোধিতা করে বলেছেন, আমরা সব জায়গায় এসি বসাতে পারি না। এটি একটি ভুল সমাধান, যা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তার মতে, এসি ব্যবহারের চেয়ে ভবনগুলোর তাপ নিরোধক ব্যবস্থার উন্নয়ন করা বেশি জরুরি।
ইউরোপের দেশগুলোতে ঐতিহাসিকভাবে এসি ব্যবহারের চল বেশ কম; মাত্র ১৯ থেকে ২০ শতাংশ পরিবারে এসি রয়েছে। এর বড় কারণ বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত এখানকার আবহাওয়া গ্রীষ্ম ও শীত উভয় সময়েই বেশ মৃদু ছিল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তৈরি হওয়া ‘হিট ডোম’-এর কারণে তাপমাত্রা এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে যে তীব্র তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে, তা মাত্র ৫০ বছর আগেও এই সময়ে হওয়া ‘অসম্ভব’ ছিল। এই গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ফ্রান্সে ‘বাড়িতে এসি বসানো’ সংক্রান্ত গুগল সার্চ এক লাফেই ১৩০ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপের মধ্যে বর্তমানে ইতালিতে এসির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি, যার পেছনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট বিদ্যুৎ খরচের এক-তৃতীয়াংশ ব্যয় হয়। ইতালির পরেই রয়েছে গ্রিস, ফ্রান্স ও স্পেন।
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য রাজনীতিবিদদের মতো এসিকে সম্পূর্ণ ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ হিসেবে দেখছেন না। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক অ্যান্টোনিও গ্যাসপারিনি বলেন, এসি সাময়িকভাবে হিট স্ট্রোকের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি কমায়, বিশেষ করে বয়স্ক ও রোগীদের জন্য এটি জীবনরক্ষাকারী। তবে লিসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক প্রিমরোজ ফ্রিস্টোন জানান, এসি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়, তবে এর ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার কারণে মানুষ অসুস্থ হতে পারে।
এ ছাড়া এসির ব্যাপক ব্যবহারে পরিবেশগত বড় ক্ষতিও রয়েছে। এসি চললে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে, যা জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে তৈরি হলে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বৃদ্ধি করে। আবার এসির ছেড়ে দেওয়া গরম বাতাস শহরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ তৈরি করে ব্ল্যাকআউটের ঝুঁকি বাড়ায়।
ফরাসি গবেষক ভিনসেন্ট ভিগুইয়ের মতে, আসল সমাধান এসি বর্জন করা নয়, বরং ভবনগুলোকে এমনভাবে সংস্কার করা যাতে গ্রীষ্মে তা বেশি গরম না হয়। ফ্রান্সে প্রায় অর্ধেক পুরোনো ভবনই বর্তমানের তীব্র তাপ সহ্য করার উপযোগী নয়। তাই বিশেষজ্ঞরা কেবল এসির ওপর নির্ভর না করে জানালা বা বারান্দায় সাটার লাগানো, ছায়া তৈরি এবং গাছ লাগানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।
সূত্র: ইউরো নিউজ

রেকর্ড তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ: ফ্রান্সে ১ হাজার মৃত্যু, আরও বাড়ার শঙ্কা
ভারতের কাছ থেকে কেন ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চায় আমিরাত
ফ্রান্সে বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ১১







