রাশিয়ার অভ্যন্তরে যেকোনও জায়গায় তাদের ইচ্ছামতো লক্ষ্যবস্তুতে বিস্ফোরণ ঘটানোর সক্ষমতা প্রমাণ করে চলেছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। ইউক্রেনীয় বাহিনীর ধারাবাহিক হামলার মুখে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, অস্ত্র কারখানা, সামরিক বহর ও যুদ্ধবিমান একের পর এক ভস্মীভূত হওয়ায় দেশটির ভেতরের খুব কম জায়গাই এখন নিরাপদ বোধ করছে।
বারবার শোধনাগারে হামলার কারণে রাশিয়া এখন তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এর মধ্যে অন্তত একটি হামলার পর বিস্ফোরণের পর আতঙ্কে মস্কোর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করতে হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়া তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশই কেন্দ্রীয় মস্কো এবং একটি প্রেসিডেন্ট বাসভবনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো সুরক্ষায় সরিয়ে নিয়েছে। ফলে রাশিয়ার অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুগুলো এখন অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এসব হামলার কারণে কিছু ‘সমস্যা’ এবং ‘নির্দিষ্ট ঘাটতি’ তৈরি হওয়ার কথা স্বীকার করলেও এর গুরুত্বকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন।
অবশ্য রুশ বাহিনীও ইউক্রেনে তীব্র পাল্টা আঘাত হানছে। কিয়েভে রাতভর চালানো রাশিয়ার হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ভারী ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও ডনেস্কের সম্মুখ সমরে রুশ সেনারা এখনও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এসব হামলাকে রসাত্মকভাবে ‘দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে বারবার অবিহিত করছেন, যা সীমান্ত থেকে শত শত মাইল গভীরে থাকা রুশ সম্পদের ওপর হামলার দিকেই ইঙ্গিত করে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ইউক্রেনের যুদ্ধাস্ত্র ও কৌশল ক্রমশ অত্যাধুনিক হয়ে উঠেছে। চলতি সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ‘ফায়ার পয়েন্ট’-এর তৈরি ‘ফ্ল্যামিঙ্গো’ ক্ষেপণাস্ত্র নিখুঁতভাবে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এর মধ্যে তিতান-বাররিকাদি কারখানাও রয়েছে, যেখানে রাশিয়ার কামান ও গোলাবারুদ তৈরি হয়।
এর আগে গত গ্রীষ্মে স্পাইডারওয়েব নামক একটি চমৎকার অভিযানের ফুটেজে দেখা গিয়েছিল, সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান করে আনা বিস্ফোরক বোঝাই ছোট ছোট ড্রোন উড়ে গিয়ে উন্মুক্ত স্থানে পার্ক করে রাখা রুশ যুদ্ধবিমানগুলোতে আঘাত হানছে। যুদ্ধের শুরুর দিকের তুলনায় এখন ইউক্রেনের কৌশলে বড় পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন মূলত নিজস্ব উৎপাদিত ড্রোন এবং পরিমার্জিত ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভর করছে। একই সঙ্গে তারা সীমান্ত থেকে অনেক দূরে থাকা মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো অঞ্চলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
বুধবার সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কিয়েভ ২০২৬ সালে রাশিয়ার রসদ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস করতে স্বল্প, মাঝারি ও দূরপাল্লার ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে ‘নাটকীয়ভাবে যুদ্ধকে রাশিয়ার ভূখণ্ডে নিয়ে গেছে’। প্রতিবেদনে এটিকে যুদ্ধবিমানের পরিবর্তে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চালানো একটি চিরায়ত বিমান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
একই প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে যে, ২০২২ সালে আক্রমণ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রণক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রায় ১৪ লাখ সেনা হতাহত হয়েছে।
তবে ইউক্রেনের এই সক্ষমতা অর্জন করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে, যার অন্যতম কারণ ছিল ইউক্রেন কোন অস্ত্র কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করতে পারবে, তা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর বেঁধে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা। তাছাড়া ইউক্রেনের প্রতিটি সফল হামলার বিপরীতে ব্যর্থতাও রয়েছে, কারণ রাশিয়ার ইন্টারসেপ্টর এবং জ্যামারগুলোও তাদের কাজ করে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করার জন্য ইউক্রেন একটি ৪০ দিনব্যাপী অভিযান শুরু করছে। তবে আপাতত এই সংকটে কূটনৈতিক অগ্রগতির খুব কম লক্ষণই দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইউরোপের দেশগুলোকে এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
সূত্র: অ্যাক্সিওস

আমিই ইসরায়েলের ইতিহাসে সেরা প্রেসিডেন্ট, ট্রাম্পের মন্তব্যে সমালোচনা
খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে কারা, আমন্ত্রণ পাননি যারা
খামেনির জানাজা কেন ইরানি শাসনব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ
আরাঘচি ও গালিবাফকে হত্যার ছক কষেছিল ইসরায়েল
পাপুয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা, পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিমান






