খামেনির জানাজায় সেই ‘রহস্যময়’ মুখোশধারী কে, জানা গেলো অবশেষে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ জুলাই ২০২৬, ১৮:৫১আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ১৮:৫১

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় প্রথম সারিতে বসা কালো মাস্ক ও কালো ক্যাপ পরিহিত এক রহস্যময় ব্যক্তিকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছিল তীব্র কৌতূহল। অবশেষে সেই রহস্যের জট খুলেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি খামেনির ছেলে বা সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি নন, বরং তিনি প্রয়াত নেতার বড় নাতি মোহাম্মদ জাভাদ খামেনি।

চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় খামেনির মৃত্যুর পর তার জানাজার সময় প্রথম সারিতে বসা এই মুখোশধারীকে দেখে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, তিনি হয়তো খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি। তবে প্রতিবেদনে জানানো হয়, মোহাম্মদ জাভাদ খামেনি হলেন সর্বোচ্চ নেতার বড় ছেলে মোস্তফা খামেনির সন্তান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানি নেতা নিহত হন, সেই একই হামলায় জাভাদ নিজেও গুরুতর আহত হন এবং তার মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। সেই ক্ষতের কারণেই জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় তিনি কালো মাস্ক দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন।

এদিকে ওই হামলার পর থেকে মোজতবা খামেনির অবস্থা নিয়েও নানান গুঞ্জন চলছে। নিউ ইয়র্ক পোস্ট মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হামলায় মোজতবাও গুরুতর আহত এবং তার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়েছে। হামলার সময় তিনি তার বাবার একই বাসভবনে থাকলেও অন্য একটি কক্ষে থাকায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। সাইপ্রাসে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা সালারিয়ান সে সময় জানিয়েছিলেন, মোজতবার পা, হাত ও বাহুতে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই হামলার পর থেকে মোজতবাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে হাতে লেখা বার্তার মাধ্যমে ইরানের সামরিক কমান্ডার ও শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে নিরাপত্তার ঝুঁকিতে দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় খামেনির মরদেহ হিমাগারে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ ছয় দিনের জানাজা ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত বৃহস্পতিবার খামেনির নিজ শহর মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে তার মরদেহ দাফন করা হয়। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, দেশজুড়ে আয়োজিত এই শোকানুষ্ঠানে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন।

সূত্র: এনডিটিভি

/এএ/
সম্পর্কিত
পশ্চিম তীরে মার্কিন আইনপ্রণেতাকে বন্দুকের নলের মুখে আটকে রাখলো ইসরায়েলি সেটেলাররা
যুক্তরাষ্ট্রের বড় হামলার পর ৪ আরব দেশে ইরানের পাল্টা হামলা
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি নয়, তবে এবার ইসরায়েল-বিরোধী বক্তব্যেই কারাদণ্ডের প্রস্তাব জার্মানির
সর্বশেষ খবর
পানিতে ভাসছে ঢাকা, জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের মহাপরিকল্পনা
পানিতে ভাসছে ঢাকা, জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের মহাপরিকল্পনা
২৫ বছর পর ফেসবুকে খালার খোঁজ পেলাম, তাও মৃত্যুর পর, কষ্টের শেষ ছিল না তার
২৫ বছর পর ফেসবুকে খালার খোঁজ পেলাম, তাও মৃত্যুর পর, কষ্টের শেষ ছিল না তার
জলাবদ্ধ ঢাবি, উপড়ে পড়লো শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া
জলাবদ্ধ ঢাবি, উপড়ে পড়লো শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া
বিশ্বপরিসরে নজরুলকে ছড়িয়ে দিতে শিল্পী-গবেষকদের নতুন প্রস্তাব
বিশ্বপরিসরে নজরুলকে ছড়িয়ে দিতে শিল্পী-গবেষকদের নতুন প্রস্তাব
সর্বাধিক পঠিত
যাত্রীবেশে বাসে মন্ত্রী, ভাংতি না থাকায় নামিয়ে দিলেন কন্ডাক্টর
যাত্রীবেশে বাসে মন্ত্রী, ভাংতি না থাকায় নামিয়ে দিলেন কন্ডাক্টর
মাঝ নদী থেকে ফেরি ঘুরিয়ে ঘাটে আনলেন এমপি হান্নান মাসউদ
মাঝ নদী থেকে ফেরি ঘুরিয়ে ঘাটে আনলেন এমপি হান্নান মাসউদ
শাহজালালের দানবাক্সে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি, আছে সারওয়ার-মামুনুলের কথা 
শাহজালালের দানবাক্সে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি, আছে সারওয়ার-মামুনুলের কথা 
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রক্ষণ ভাঙতে দেরি কেন, উত্তর দিলেন আলভারেজ 
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রক্ষণ ভাঙতে দেরি কেন, উত্তর দিলেন আলভারেজ 
খুলে দেওয়া হলো মুহুরী সেচ প্রকল্পের ৪০ জলকপাট
খুলে দেওয়া হলো মুহুরী সেচ প্রকল্পের ৪০ জলকপাট