অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র সশরীরে দেখতে গিয়ে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য রো খান্না। ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের খোঁজখবর নেওয়ার সময় আমেরিকার তৈরি অস্ত্রধারী ইসরায়েলি সেটলাররা তাকে বন্দুকের নলের মুখে আটকে রাখে।
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রগতিশীল এই আইনপ্রণেতা শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আমার ফিলিস্তিন সফরের সময় আমেরিকার তৈরি এম-৪ রাইফেল উঁচিয়ে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা আমাকে এবং অন্য আমেরিকানদের আটকে রাখে।
তিনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দিকে ইঙ্গিত করে আরও বলেন, যখন আইডিএফ (ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস) সেখানে পৌঁছায়, তারা বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষ নেয় এবং আমাদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখে।
এই আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা একটি মস্ত বড় ভুল করেছে।
রো খান্না পশ্চিম তীরের খিরবেত জানুতা নামের একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে গিয়েছিলেন। সেখানকার বাসিন্দারা ইসরায়েলি সেটেলারদের হাতে জাতিগত নিধনের শিকার হয়েছেন। উগ্রপন্থি সেটেলারররা ওই গ্রামের স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছে, ঘরবাড়ি লুটপাট করেছে, রাইফেল ও পাথর দিয়ে বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এছাড়া তারা জানালার কাচ ও সৌরবিদ্যুতের প্যানেল ভেঙে ফেলা, পানির ট্যাংক খালি করা এবং ফসলি জমিতে অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য ফেলার মতো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে রো খান্না বলেন, আমরা এমন একটি গ্রামে ছিলাম যা ইসরায়েলি সেটেলাররা ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা সেখানকার স্কুল এবং পুরো গ্রামটিই ধ্বংস করে দিয়েছে, আমরা কেবল তা দেখছিলাম। ঠিক তখনই আমেরিকার তৈরি এম-৪ মেশিনগান হাতে একদল গুন্ডা এসে আমাদের রাস্তা অবরোধ করে আটকে রাখে। এরপর তারা আইডিএফ-কে ডাকে এবং আইডিএফ আমেরিকানদের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো ওই গুন্ডাদের পক্ষ নেয়।
কংগ্রেস সদস্য খান্নার সঙ্গে সফররত তার সহকারী ক্যামেরন কাস্কি জানিয়েছেন, সেটেলাররা এই প্রতিনিধিদলটিকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রেখেছিল। এই পরিস্থিতিতে তারা সাহায্যের জন্য জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে বারবার যোগাযোগ করেন। কাস্কি জানান, অবশেষে ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তারা এসে হস্তক্ষেপ করেন এবং তাদের মুক্তি নিশ্চিত করেন।
তবে কট্টর ইসরায়েলপন্থি মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এই মার্কিন প্রতিনিধিদলের পক্ষে কোনও হস্তক্ষেপ করেছিলেন কিনা বা তাদের সঙ্গে হওয়া এমন আচরণের কোনও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী খিরবেত জানুতার কাছে সেটেলারদের দ্বারা গাড়ি আটকে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও দাবি করেছে যে, তাদের বাহিনীই এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েল প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা পায়। এই সহায়তার অর্থ দিয়েই মার্কিন প্রযুক্তির এম-৪ রাইফেলের মতো অস্ত্র কেনা হয়, যা এখন ফিলিস্তিন অঞ্চলে ইসরায়েলি সেটেলারদের হাতে দেখা যাচ্ছে।
গাজায় চলমান গণহত্যা এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বর্ণবাদী নীতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক ভোটারদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ব্যাপকভাবে ধসে পড়েছে। রয়টার্স/ইপসোস-এর সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের গ্রহণযোগ্যতার হার ২০১৮ সালের ৫৯ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে চলতি বছরের মে মাসে মাত্র ২২ শতাংশে নেমে এসেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই

যুক্তরাষ্ট্রের বড় হামলার পর ৪ আরব দেশে ইরানের পাল্টা হামলা
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি নয়, তবে এবার ইসরায়েল-বিরোধী বক্তব্যেই কারাদণ্ডের প্রস্তাব জার্মানির
লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা মোজতবা খামেনি অবশেষে আসছেন প্রকাশ্যে
খামেনির জানাজায় সেই ‘রহস্যময়’ মুখোশধারী কে, জানা গেলো অবশেষে







