একটি রেশমি শাড়ি, যার দৈর্ঘ্য সাড়ে ৫ মিটার (১৮ ফুট) এবং প্রস্থ ৪৮ ইঞ্চি। অথচ অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, পুরো শাড়িটি ভাঁজ করে অনায়াসে ঢুকিয়ে রাখা যায় সাধারণ একটি দিয়াশলাই বাক্সের ভেতর! তেলেঙ্গানার সিরসিলার এক তাঁতি এমনই এক বিরল রেশমি শাড়ি বুনে উপহার দিয়েছেন শ্রীশৈলম মন্দিরের দেবী ভ্রমরাম্বাকে। শাড়িটি বুননশিল্পীদের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কলারত্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত তাঁতি নাল্লা বিজয় কুমার এই শাড়িটি শ্রী ভ্রমরাম্বা মল্লিকার্জুন স্বামী মন্দির ট্রাস্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান পোথুগুন্টা রমেশ নাইডুর কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য কোডে কান্তি বর্ধিনীও উপস্থিত ছিলেন। বিজয় কুমার জানান, তিনি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে একটি তাঁতযন্ত্রে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই শাড়িটি বুনেছেন। প্রথাগত ইক্কত নকশায় তৈরি এই রেশমি শাড়িটির ওজন মাত্র ২০০ গ্রাম।
বিজয় কুমার এই শাড়ি তৈরির কৃতিত্ব দেবীর আশীর্বাদকে উৎসর্গ করে বলেন, এই কাজ মূলত হস্তচালিত তাঁতশিল্পীদের দক্ষতা ও ধৈর্যেরই প্রতিফলন। দেবস্থানের পক্ষে শাড়িটি গ্রহণ করে রমেশ নাইডু তাঁতিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, এই পোশাকটি রাজ্যের তাঁত সম্প্রদায়ের গভীর প্রতিভার প্রমাণ। তাঁত বুনন কেবল জীবিকা নয়, এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা একটি শিল্প। এই বস্ত্র তাঁতিদের সৃজনশীলতা, কারুকার্য ও নিষ্ঠাকে মূর্ত করে তোলে।
তিনি সবাইকে তাঁত পণ্য সমর্থনের আহ্বান জানান।
শাড়ি উপহার দিতে মন্দিরে আসা বিজয় কুমার ও তার পরিবারের জন্য বিশেষ দর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শাড়ি হস্তান্তরের পর, ট্রাস্ট চেয়ারম্যান রমেশ নাইডু মন্দিরের লাইন এবং দান কেন্দ্রে একটি আকস্মিক পরিদর্শন করেন। তিনি ভক্তদের সুবিধার কথা চিন্তা করে লাইনে থাকা দর্শনার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জল ও জলখাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
সূত্র: উইয়ন নিউজ









