মৃত কিংবা গোশালায় নেই, এমন গরুর নাম তালিকায় দেখিয়ে সরকারি অনুদান তুলে নেওয়ার এক অদ্ভুত জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে ভারতের রাজস্থানে। রাজ্যের গো-রক্ষা তহবিলের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ৫৭ কোটি ৩৬ লাখ রুপির এই অনিয়ম ধরা পড়েছে। গোশালাগুলো মূলত পানি ও গো-খাদ্যের ভর্তুকি পেতে নথিপত্রে গরুর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখিয়ে এই জালিয়াতি করেছে।
ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজস্থানের ৩৮টি গোশালা তাদের আবেদনে প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার বেশি গবাদিপশু দেখিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে অতিরিক্ত ৫৭.৩৬ কোটি রুপি অনুদান তুলে নেয়। গোশালাগুলোর দৈনিক নথির সঙ্গে সরকারি ভারত পশুধন অ্যাপ-এর তথ্যের ব্যাপক অমিল পাওয়া গেছে। এমনকি অনুদানের টাকা তোলার জন্য ট্যাগবিহীন বা নিষ্ক্রিয় গরুর আইডিও ব্যবহার করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক গরুর জন্য দৈনিক ৪০ রুপি এবং বাছুরের জন্য ২০ রুপি করে অনুদান দেওয়া হয়।
সিএজি রিপোর্টে জয়পুরের পিঞ্জরাপোল গোশালা ১.৮১ কোটি রুপি এবং হিঙ্গোনিয়া গোশালা ১.৪১ কোটি রুপি অতিরিক্ত নেওয়ার তথ্য এসেছে। তবে সবচেয়ে বড় জালিয়াতি ধরা পড়েছে দিগ জেলার শ্রী ব্রজ কামদ সুরভী বন রিসার্চ ইনস্টিটিউট গোশালা’য়, যারা একাই ১৬.৩৬ কোটি রুপি অতিরিক্ত তুলেছে। এ ছাড়া জালোর জেলার শ্রী গোপাল গোবর্ধন গোশালা ১০.৯৫ কোটি রুপি অতিরিক্ত হাতিয়েছে।
এই অডিট রিপোর্টের পর রাজস্থানের গোপালন বিভাগ অভিযুক্ত ৩৮টি গোশালাকে গত ২৯ মে নোটিশ পাঠিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৫৭.৩৬ কোটি রুপি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অর্থ ফেরত না দিলে ভবিষ্যতে তাদের সব আর্থিক অনুমোদন বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও বিপুল পরিমাণ অর্থ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অবশ্য গোশালা পরিচালকেরা জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এটি কেবলই নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতা এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্ত কমিটির অধীনে রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি

রফতানিতে রেকর্ড, তবু কেন থমকে গেলো চীনের অর্থনীতি







