ব্রাজিলের কিছু সুনির্দিষ্ট আমদানি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রাজিলের ‘অন্যায়’ বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে বছরব্যাপী এক তদন্ত শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগামী ২২ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্পের আগের আমদানি করের আইনি ভিত্তি বাতিল করার পর, এটিই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক পুনর্বহালের প্রতিশ্রুতির প্রথম বাস্তবায়ন।
বুধবার রাতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে জানান, ব্রাজিলের নীতি ডিজিটাল বাণিজ্য, ইথানল বাজারের প্রবেশাধিকার এবং অবৈধ বন উজাড়ের মতো বিষয়ে আমেরিকানদের স্বার্থের ক্ষতি করছে।
ব্রাজিলের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট লুলা ও তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৎ উদ্দেশ্যে আলোচনা করেনি। গত এক বছর ধরে লুলা তার নিজের অহঙ্কারকে ব্রাজিলের জনগণের কল্যাণের চেয়ে ওপরে রেখেছেন এবং এই শুল্ক তারই খেসারত।
তবে এই শুল্কের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এক এক্স পোস্টে একে ‘অবৈধ ও চাপিয়ে দেওয়া’ বলে অভিহিত করেছেন। এর কোনও যৌক্তিকতা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্রাজিল নিজের আইনের অধীনে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মাধ্যমেও এর সমাধান খুঁজবে।
অবশ্য ইউএসটিআর-এর নোটিশ অনুযায়ী, ব্রাজিলের প্রধান কিছু রফতানি পণ্য যেমন-কফি, গরুর মাংস, অ্যাভোকাডো, ব্রাজিল নাটস, পেট্রোলিয়াম তেল এবং বিমানের যন্ত্রাংশ এই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।
এদিকে, জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আরেকটি তদন্ত চলছে যা আগামী সপ্তাহে শেষ হবে। সেখানে আরও ১২.৫ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হলে ব্রাজিলের মোট শুল্কের বোঝা দাঁড়াতে পারে ৩৭.৫ শতাংশে।
এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে ডানপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বিচার বন্ধ না করলে ট্রাম্প ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়েছিলেন, যা পরে তুলে নেওয়া হয়।
সূত্র: সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে কী ভাবছেন ইরানের প্রভাবশালী নেতারা
শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ: সংঘাত বিস্তারের হুঁশিয়ারি ইরানের







