অবশেষে আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেফতার

যশোর প্রতিনিধি 
২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪:৩৭আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৬:২৫

চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) যশোর থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

বেলা ২টার দিকে তাকে গ্রেফতারের তথ্য বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিরাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘যশোর নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় একটি গাড়ির ভিতর থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারের পর যশোরের পুলিশের হেফাজতে রয়েছে ইমন। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।'

পুলিশের দাবি, চট্টগ্রাম নগরী এবং রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলায় বেশিরভাগ চাঁদা দাবি ও হামলার নেপথ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারীরা। একসময় ছোট সাজ্জাদ বড় সাজ্জাদের হয়ে সব অপরাধ করে বেড়াতেন। ছোট সাজ্জাদ গ্রেফতারের পর মোবারক হোসেন ইমন এবং মোহাম্মদ রায়হান নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এই দুজন একের পর এক অপরাধ করে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে খুঁজে পাচ্ছিল না। অবশেষে তাকে গ্রেফতার করা হলো।

গত ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। লুট করা হয় প্রতিষ্ঠানটিতে বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা। ৩০ থেকে ৩৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি এ হামলা চালায়। অথচ এর আগে গত ১১ জুলাই ডেভিড ইমন (মোবারক হোসেন ইমন) পরিচয়ে ২ কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে ডিডিএন মালিক আদিল বিন মামুনের মোবাইলে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করা হয়।  

এতে ডেভিড ইমন বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দেবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেবেন। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে। আপনি আমার ডিটেইলস পুলিশ কমিশনার থেকে জিজ্ঞেস করেন। আপনি আমাকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারকে আমার নম্বরটা দেখাইয়েন। ব্যবসা এখন থেকে আমরা করবো। আপনারা করিয়েন না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে স্মার্ট গ্রুপের মুজিবের ঘরে কী হয়েছিল ওটা দেখেছেন তো। মুজিবের কাছে গিয়ে আমার কথা জিজ্ঞেস করেন। তাহলে বুঝবেন।’

এই হুমকির মাত্র দুই দিনের মধ্যে ডিডিএন অফিসে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে সিনেমার স্টাইলে হামলা-ভাঙচুর ও লুট করা হয়। ব্যবসা বন্ধ রাখতে হুমকি দিয়ে গেছেন তারা। হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

সবশেষ সোমবার যে প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে, তার পাশেই চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালায়। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়। তখন বাসার জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশি পাহারায় ছিল। এরপরও আবার গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ পলাতক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। রবিবার (২৬ জুলাই) রাতে নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।  

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)। এর মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি। 

/এএম/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ভারতে পালাতে গিয়ে যেভাবে গ্রেফতার হলো ডেভিড ইমন
শ্যোন অ্যারেস্ট কী, কেন প্রয়োজন হয়?
কে এই ডেভিড ইমন, কেন এত আলোচিত 
সর্বশেষ খবর
"লেখা ছাড়া বেঁচে থাকাই ছিল অসম্ভব" কথাসাহিত্যিক মণিকা চক্রবর্তীর সাক্ষাৎকার
ঠোঁটের হাসি নয়, এবার নজর কাড়লো জেন্ডায়ার মাকড়সা-হিল
মার্কিন-সৌদি হামলার পর রিয়াদ সফর স্থগিত করলেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী
৩৬ জুলাইয়ের বর্ষপূর্তিবিএনপির আলোচনা সভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান
সর্বাধিক পঠিত
২৩ বছর ধরে বন্ধ কারখানা এখন রফতানিমুখী, চাকরি পেলো ৩৫০০ মানুষ
মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ: তিন খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ
ফেসবুকে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, অবশেষে ধরা পড়লো প্রতারক
নাসীরুদ্দীন-সারজিসের ওপর হামলা কেন, যা বলছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা
একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার আট প্রকল্প অনুমোদন