ফুটবল বিশ্বে তীব্র সমালোচনা, ইউরোপীয় ফুটবলের বয়কট হুমকি এবং নিজ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখে বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের স্বত্ব বা শেয়ার বেসরকারি খাতে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করেছে ফিফা। খবর বিবিসি।
শুক্রবার এক জরুরি বিবৃতিতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ঘোষণা করেন, এই ব্যবসায়িক প্রস্তাব ফুটবল অঙ্গনে তীব্র বিভাজন তৈরি করেছে যা খেলাটির মূল স্বার্থের পরিপন্থি। তাই সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো।
যেভাবে কোণঠাসা হলেন ইনফান্তিনো
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো প্রতিশ্রুত ৪০ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৪৭২ কোটি টাকা) লোভনীয় অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশকে এই বিড পাসের জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ইউরোপের ৫৫টি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের জোট ‘উয়েফা’ বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই প্রস্তাব পাস হলে তারা পরবর্তী বিশ্বকাপ বয়কট করবে।
উয়েফার পর উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা ‘কনকাকাফ’ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (এএফসি) একই সুরে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে উয়েফার পাশে দাঁড়ায়। ফিফার সংবিধানে প্রস্তাব পাসের জন্য ১০৬টি ভোটের প্রয়োজন থাকলেও, এই তিনটি জোট একত্রিত হওয়ায় ১৩৬টি ভোট সরাসরি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে চলে যায়।
ভেতর থেকে বড় ধাক্কা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পদত্যাগ
ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামুর স্বীকার করেছেন, এই প্রজেক্ট নিয়ে ফিফার নিজস্ব প্রশাসনকেও বিভ্রান্ত ও অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। সংক্ষুব্ধ হয়ে ফিফা সভাপতির বিশ্ব কৌশল ও শাসন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, “এই প্রস্তাব ফুটবলের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং এটি ফুটবলের ভবিষ্যৎকে বন্ধক রাখার সামিল।”
এমনকি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন যে, ইনফান্তিনো ফিফা পরিচালনার জন্য ‘উপযুক্ত ব্যক্তি নন’।
চতুর্থ মেয়াদে জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা
আগামী ২০২৭ সালের মার্চে ফিফা কংগ্রেসে চতুর্থবারের মতো সভাপতি পদে নির্বাচনের লড়াইয়ে নামার কথা ৫৬ বছর বয়সী সুইজারল্যান্ডের নাগরিক জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর। তবে ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার এই নজিরবিহীন ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের পর সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর মেয়াদ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়লো।
অবস্থা সামাল দিতে ইনফান্তিনো এখন বলছেন, ফুটবল সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবার এক টেবিলে বসিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হবে। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনায় ইনফান্তিনোর ক্ষমতার ভিত বড় ধরনের ধাক্কা খেলো।

ফিফাকে বর্জন করে ইউরোপের ৫৫ দেশ বলছে, ‘বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়’







