সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আজ থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ডিভাইস সংযুক্তি ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। তবে বিষয়টি জানেন না গাড়ির চালক-হেলপারা। এমনকি জানেন না ট্রাফিক সার্জেন্টরাও।
শনিবার (১ আগস্ট) সরেজমিন গাড়ির চালক, হেলপার এবং ট্রাফিক সার্জেন্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের একদিকে এয়ারপোর্ট সড়ক, বিপরীতে গুলিস্তান। এছাড়াও ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার সড়ক। সেখানে আলিফ পরিবহণের একটি বাসের স্টাফ আলাউদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, জিপিএস লাগানোর বিষয়টি তারা জানেন না। এ বিষয়ে তাদের কোনও কিছু বলা হয়নি।
অছিম গাড়ির লাইনম্যান সাগর জানান, গাড়ির কোম্পানি থেকে তাদের এ বিষয়ে কোনও কিছু বলা হয়নি। প্রথম শুনলেন বলেও জানান তিনি।
আসমানী গাড়ির লাইনম্যান আশরাফ জানান, জিপিএস বসানোর বিষয়টি তারা জানেন না। কোনও কিছু বলাও হয়নি।
ভিক্টর গাড়ির চালক মশিউর বলেন, ‘‘গাড়িতে কোনও জিপিএস নাই। মালিকরাও কিছু জানাননি। জিপিএস বসানোর বিষয়টিও জানি না।’’
রাইদা পরিবহনের চালক আলতাব হোসেন বলেন, ‘‘জিপিএসের বিষয়টি কেউ জানায়নি। কোম্পানি থেকেও বলা হয়নি। এ কারণে জিপিএস বসানোও হয়নি।’’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘তাদের কোম্পানির কোনও গাড়িতেই জিপিএস বসানো হয়নি।
এদিকে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্টদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনও নির্দেশনা নেই। তারা এখনও বিষয়টি জানেন না।
দায়িত্বরত সার্জেন্ট মনিরুজ্জামান বলেন, ‘‘আমাদের স্যারেরা এখনও বিষয়টি নিয়ে আমাদের কিছু বলেননি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে আমরা অবগত নই।’’
সার্জেন্ট শুভ বলেন, ‘‘আমি তো জানি না, আপনি বাসের লোকদের জিজ্ঞাসা করেন।’’
সার্জেন্ট সাকিব বলেন, ‘‘আমি গতকাল নিউজে দেখেছি। কিন্তু এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে কি হচ্ছে না এ বিষয়ে স্যারেরা কোনও দিকনির্দেশনা দেননি। যেহেতু এ রকম একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। দু-এক দিন পর হয়তো বাস্তবায়ন হয়েছে কি না তার জন্য নির্দেশনা আসবে।’’
তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার রফিকুল ইসলাম জানান, আজ যেহেতু প্রথম দিন এ কারণে হয়তো ওই রকম নির্দেশনা আসেনি। তবে যেহেতু সিদ্ধান্ত হয়েছে এটির বাস্তবায়নও হবে। যারা করবে না আমাদের ওপর নির্দেশনা এলে মামলা করা হবে।’’
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) আসফিকুজ্জামান আকতার জানান, বিষয়টি অতিরিক্ত কমিশনার স্যার ভালো বলতে পারবেন। স্যার কোনও নির্দেশনা দিলে সেটি আমরা বাস্তবায়ন করবো। তবে এখনও স্যার নির্দেশনা দেননি। এ বিষয়ে স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
জানা গেছে, দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে শনিবার থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করে সরকার। নতুন নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে হবে।
এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো, গণপরিবহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ, রুট ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত না হলে সুফল অর্জন কঠিন হবে।
দেশের সড়কে দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় বাসের বেপরোয়া রেষারেষি, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে যাত্রী ওঠানামা এবং একাধিক লেন দখল করে যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকার কারণে তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতেই সরকার জিপিএসভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘নতুন নিবন্ধনের জন্য আসা প্রতিটি গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্ত থাকতে হবে। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও এটি বাধ্যতামূলক। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যার মাধ্যমে সহজেই কোনও যানবাহনে জিপিএস সংযুক্ত ও সচল রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা যাবে।’’

গণপরিবহনে জিপিএস: এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে, কেন প্রয়োজন?
গণপরিবহনে আজ থেকে জিপিএস বাধ্যতামূলক, না করলে কী হবে?







