‘ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার পর ৮০ টাকার সিএনজি’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
০৩ আগস্ট ২০২৬, ২৩:৫১আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ২৩:৫১

রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কাটছেই না গ্যাস সংকট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। অনিশ্চয়তায় পড়েছে অনেকের রোজগার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। 

সোমবার  (৩ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোথাও গ্যাসের চাপ একেবারেই কম, আবার কোথাও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে সরবরাহ। ফলে সকাল থেকেই স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় সিএনজি অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য গ্যাসচালিত যানবাহনকে। অনেক চালক কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও গ্যাস না পেয়ে খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন। 

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কয়েক ঘণ্টা পার হলেও গ্যাসের দেখা নেই। কাজে যেতে পারছি না, শুধু সময়ই নষ্ট হচ্ছে। যখন গ্যাস আসে, তখন চাপ এত কম থাকে যে একটি গাড়িতে গ্যাস নিতেই অনেক সময় লাগে। এতে লাইনের শেষের মানুষ আরও বিপাকে পড়ছেন।

টানা কয়েকদিনের গ্যাস সংকটে কার্যত থমকে গেছে অনেক গাড়ির চাকা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক ও রাইড শেয়ার চালকেরা। দৈনিক আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা।

আজিজুল ইসলাম নামের সিএনজি চালক বলেন, “রাত সাড়ে ১১টায় মুগদায় সিএনজি পাম্পে দাঁড়িয়ে ভোর ৫টায় ৮০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। তাহলে আমরা চলবো কীভাবে। ৮০ টাকার গ্যাসে  সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার ভাড়া মারা যাবে। পরের গ্যাস নিতে তো দিনই পার হয়ে যাবে। তাহলে বাসায় যাবো কখন, আর ভাড়াই মারবো কখন।” 

আমির হোসেন নামের আরেক সিএনজি চালক জানান, ৩ ঘণ্টা অপেক্ষার পর ৪০ টাকার গ্যাস পাওয়া গেছে। ৪০ টাকার গ্যাসে কীভাবে ভাড়া মারবেন বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, “আমাদের চলার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”   

আরেক সিএনজি চালক বলেন, “সারাদিন রাস্তায় থাকার বদলে এখন অর্ধেক সময় লাইনে কাটছে। আগে যেখানে দিনে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় হতো, এখন হাজার টাকাও হচ্ছে না।” 

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে করুণ চিত্র। ঘণ্টার পর ঘণ্টা— অনেক ক্ষেত্রে গভীর রাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকছে সিএনজি অটোরিকশা, বাস ও প্রাইভেটকার।

আকবর হোসেন নামের প্রাইভেটকার-চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সারারাত পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে সকালে মাত্র ২০০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। গ্যাসই যদি না পাই, তবে গাড়ি চালাবো কীভাবে আর মহাজনকেই বা জমার টাকা দেবো কোথা থেকে?” 

দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। তবে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটে। এতে শুধু সিএনজি ফিলিং স্টেশনই নয়, বাসাবাড়ি, শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতেও গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

/আইএ/এসও/এসটি/
সম্পর্কিত
‘বিদ্যুৎ বিল আর খাবারের খরচ দুটোই বাড়ছে’
অতিরিক্ত বিলকে অপপ্রচার বলা বিজ্ঞপ্তি সংশোধন, এবার যা জানালো বিদ্যুৎ বিভাগ
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হলে দায়ী ব্যক্তি-গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা 
সর্বশেষ খবর
হামের ধাক্কায় ঋণের বোঝা, চিকিৎসা ব্যয়ে বিপাকে অধিকাংশ পরিবার
হামের ধাক্কায় ঋণের বোঝা, চিকিৎসা ব্যয়ে বিপাকে অধিকাংশ পরিবার
ঢাকায় সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এলখারেজি
ঢাকায় সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এলখারেজি
ম্যানইউ একাডেমি থেকে বাংলাদেশ দলে, কে এই অ্যাডাম আব্বাস?
ম্যানইউ একাডেমি থেকে বাংলাদেশ দলে, কে এই অ্যাডাম আব্বাস?
‘বিদ্যুৎ বিল আর খাবারের খরচ দুটোই বাড়ছে’
‘বিদ্যুৎ বিল আর খাবারের খরচ দুটোই বাড়ছে’
সর্বাধিক পঠিত
জুলাই কুস্তিগিরদের আগাম অভিনন্দন, মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না: মাহফুজ আলম
জুলাই কুস্তিগিরদের আগাম অভিনন্দন, মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না: মাহফুজ আলম
৫ আগস্টের ছুটি কারা পাবেন, কারা পাবেন না
৫ আগস্টের ছুটি কারা পাবেন, কারা পাবেন না
ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বরখাস্ত, কারণ জানালেন জেলা প্রশাসক
ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বরখাস্ত, কারণ জানালেন জেলা প্রশাসক
নাম পাল্টালো বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ
নাম পাল্টালো বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ
কেন বাড়িঘর ফেলে চলে যাচ্ছেন টেকনাফের মানুষ, জনপ্রতিনিধিরাও আতঙ্কে
কেন বাড়িঘর ফেলে চলে যাচ্ছেন টেকনাফের মানুষ, জনপ্রতিনিধিরাও আতঙ্কে