দরপত্র আহ্বান না করেই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) জন্য ২০০টি ইলেকট্রিক বাস, চার্জিং স্টেশন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই বাস কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, মহাসড়ক বিভাগের একটি প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেছে। এর আওতায় সরকারি অর্থায়নে বিআরটিসির জন্য আনুমানিক ২০০টি ইলেকট্রিক বাস, যার মধ্যে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাসও থাকবে, ক্রয় করা হবে। একই সঙ্গে বাস পরিচালনার জন্য চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে।
অন্যদিকে বিভাগীয় শহরগুলোতেও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালাতে চায় সরকার। তাই সম্প্রতি বিআরটিসির জন্য ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা, ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি (ইকুইটি) হিসেবে বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এজন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, ইলেকট্রিক বাস চালু হলে জ্বালানি ব্যয় কমবে, বায়ুদূষণ হ্রাস পাবে, যাত্রীসেবার মান বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয়ও কমে আসবে। এ লক্ষ্যেই প্রথম ধাপে আনুমানিক ১০০টি ইলেকট্রিক বাস, ২৫টি চার্জিং স্টেশন এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব বাস ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ রুটের পাশাপাশি বিভাগীয় শহরগুলোর আন্তঃনগর রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিআরটিসি আরও জানিয়েছে, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালু করা, কার্বন নিঃসরণ ও জ্বালানি ব্যয় কমানো, আধুনিক ও টেকসই পরিবহনসেবা নিশ্চিত করা এবং সরকারের ঘোষিত সবুজ পরিবহন করিডোর বাস্তবায়নে সহায়তা করা।
বিআরটিসির ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। এছাড়া ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনে ৫০ কোটি টাকা, আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও স্পেয়ার পার্টস কিনতে ৩৫ কোটি টাকা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় ২০ কোটি টাকা, পরিবহন, রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য ব্যয়ে ২৫ কোটি টাকা এবং ডিপোসহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা উন্নয়ন ও মেরামতে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের মোট সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং যাত্রীদের জন্য আরও আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।









