গত কয়েক দিনের তীব্র সংকট কাটিয়ে রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকে বেশিরভাগ স্টেশনে স্বাভাবিক চাপেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কমেছে দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তিও।
রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
তেজগাঁওয়ের আকিজ সিএনজি স্টেশনের বিক্রয়কর্মী তারেক বলেন, সকাল থেকেই গ্যাস সরবরাহে কোনও সমস্যা হচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই গ্রাহকদের গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, স্টেশনে দীর্ঘ কোনও সারিও নেই। গ্যাসের চাপও আগের তুলনায় ভালো।
মেরুল বাড্ডার জামান সিএনজি স্টেশনের বিক্রয়কর্মী শরিফ বলেন, সকাল থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। গত কয়েক দিন গ্যাস সংকটের কারণে স্টেশন বন্ধ রাখতে হলেও শনিবার থেকে আবার চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আজ গ্যাসের প্রেসারও ভালো। সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি—দুই ধরনের যানবাহনই স্বাভাবিকভাবে গ্যাস নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত সরবরাহে কোনও সমস্যা হয়নি।
প্রাইভেটকার চালক ইউনুস মিয়া বলেন, শনিবার গ্যাস নিতে কোনও সমস্যা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই গ্যাস পাওয়া গেছে। বড় কোনও লাইনও ছিল না। গ্যাসের চাপও ভালো ছিল।
সিএনজি চালক নাসির হোসেন বলেন, গত কয়েক দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ৬০-৭০ টাকার বেশি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। ২০০ টাকার বেশি গ্যাস নিতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, এভাবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আমাদের জন্য ভালো। সরকারের উচিত সরবরাহটা স্বাভাবিক রাখা।
কেন তৈরি হয়েছিল সংকট
মহেশখালীতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এলএনজি খালাসে বিলম্ব হয়। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সংকট তৈরি হয়।
এর প্রভাবে আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি সিএনজি চালক ও শিল্প খাতের সংশ্লিষ্টরাও ভোগান্তিতে পড়েন। কয়েক দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেক স্টেশনে সরবরাহ কম থাকায় সীমিত পরিমাণে গ্যাস বিক্রি করা হয়, আবার কোথাও স্টেশন বন্ধও রাখতে হয়েছে।
তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস সংকট অনেকটাই কেটে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্টেশনে গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ স্বাভাবিক থাকায় আপাতত সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।









