মাটি ছেড়ে হেলিকপ্টারটি আকাশে উঠতেই যাত্রীদের চোখের সামনে ভেসে উঠলো ‘জেড ড্রাগন স্নো মাউন্টেন’-এর বরফে ঢাকা পাহাড়ের চূড়া আর হিমবাহের মনোরম দৃশ্য। চীনের ইউনান প্রদেশের লিচিয়াংয়ে চালু হওয়া এই কম উচ্চতার আকাশ ভ্রমণ বা ‘ফ্লাইটসিয়িং’ পরিষেবা পর্যটকদের কাছে দারুণ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। তবে এটি কেবল একটি পর্যটন সুবিধা নয়; বরং পরিষেবা খাতকে নতুন রূপ দিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ কেনাকাটা ও ভোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে চীনের নেওয়া এক অভিনব কৌশলের বাস্তব উদাহরণ।
পরিবারের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চীনের অর্থনীতি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করায় দেশটির প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা। সম্প্রতি চীনা সরকার অভ্যন্তরীণ ভোগের প্রসারে তাদের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে ভোগ্যপণ্যের বার্ষিক বিক্রি ৬০ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে (প্রায় ৮.৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার) উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২৫ সালে ছিল ৫০ ট্রিলিয়ন ইউয়ান।
এই কেনাকাটা ও চাহিদা বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে চীন। বেইজিংয়ের ৬০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক স্থান ‘লংফুসি’ এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। গত জুন মাসে সেখানে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ইকোনমি এক্সপেরিয়েন্স উইক’-এ ৪০টিরও বেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রোবট, এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি অভিজ্ঞতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত খেলনা ও ই-কমার্সের মতো উদ্ভাবন প্রদর্শন করে। দর্শনার্থীরা সেখানে ঐতিহাসিক আমেজ উপভোগের পাশাপাশি ডিজিটাল পণ্য কেনাকাটার নতুন অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন।
একইভাবে গ্রাহকদের কেনাকাটায় উৎসাহিত করতে বড় ভূমিকা রাখছে এআই প্রযুক্তি। এখন কণ্ঠস্বরের নির্দেশেই পণ্যের অর্ডার দেওয়া যাচ্ছে, চোখ থেকে এআই চশমা না খুলেই সম্পূর্ণ হচ্ছে পেমেন্ট। এমনকি এআই স্বাস্থ্যসেবা সহকারী ওয়াটার ফিল্টার পরিবর্তনের মতো প্রয়োজনীয় রিমাইন্ডারও দিয়ে দিচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, বয়স্ক ও শিশু যত্ন, শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিনোদন সব ক্ষেত্রে উৎপাদন-নির্ভর অর্থনীতি থেকে সরে এসে চাহিদা ও ভোগকেন্দ্রিক অর্থনীতির দিকে চীন সফলভাবে ধাবিত হচ্ছে।
সূত্র: সিএমজি

ট্রাম্প ‘বন্ধু’ হলেও নিজের অবস্থান ‘কঠোর’ করতে জানেন নেতানিয়াহু
বিলাসবহুল গাড়ি ছেড়ে সাধারণ ব্র্যান্ডে ঝুঁকছেন ধনী ক্রেতারা






