চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট জনে। এ ঘটনায় ১৪ জন শ্রমিক আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে পাঁচ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন– মো. রানা (২৫), খোকন (২৬), হাবিবুর রহমান (৪২) এবং দুই ভাই মোহাম্মদ নাসির (৪৭) ও মোহাম্মদ মনসুর (৫৫)।
সীতাকুণ্ডের কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন জানান, শিপইয়ার্ডে পুরোনো এলএনজিবাহী একটি জাহাজ ভাঙার কাজ চলছিল। জাহাজের ভেতরে একটি বদ্ধ রুমে নামেন কয়েকজন শ্রমিক। এ সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন সবাই। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নজরুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক জানান, ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ড গ্রিন ক্যাটাগরির হলেও শ্রমিকরা অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার যে ব্যবস্থা থাকার কথা তা ছিল না। এমনকি এ প্রতিষ্ঠানে কোনও অ্যাম্বুলেন্স ছিল না। যে কারণে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেরি হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশিক জানান, দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিলের ঘটনায় আহত ছয় জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মধ্যে পাঁচ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে দুই দফায় আরও তিন জনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে মরদেহগুলো হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম বলেন, শিপইয়ার্ডটিতে গ্যাস বিস্ফোরণের পর এ পর্যন্ত আট জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনায় ১৪ জন শ্রমিক আহত হন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সীতাকুণ্ডে জাহাজ কাটার সময় ‘বিষাক্ত গ্যাসে’ ৫ শ্রমিকের মৃত্যু







