যে সিনেমা ৯ ভাষায় রিমেক হয়েছিল

বিনোদন ডেস্ক 
১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৪আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৩

একটি সিনেমা। ভাষা বদলেছে ৯ বার। গল্পের মূল আবেগ একই থেকেছে, বদলেছে চরিত্রের নাম, সংলাপ, গান ও পরিবেশ। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এমন নজির খুব বেশি নেই। তেলুগু ভাষার ‘নুভ্বোস্তানান্তে নেনোদ্দান্তানা’ এমনই এক সিনেমা, যার গল্প পরে ভারতের বিভিন্ন ভাষায় নতুন করে পর্দায় এসেছে। বাংলাদেশেও তৈরি হয়েছে এর রিমেক। মোট নয়টি ভাষায় রিমেক হওয়া এই সিনেমাটি ভারতীয় চলচ্চিত্রে সবচেয়ে বেশি ভাষায় রিমেক হওয়া সিনেমাগুলোর একটি। 

২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘নুভ্বোস্তানান্তে নেনোদ্দান্তানা’ ছিল প্রভু দেবার পরিচালক হিসেবে অভিষেক। প্রযোজনা করেন এম এস রাজু। অভিনয়ে ছিলেন সিদ্ধার্থ, ত্রিশা কৃষ্ণন ও শ্রীহরি। সংগীত পরিচালনা করেন দেবী শ্রী প্রসাদ। ১৪ জানুয়ারি মুক্তির পর সিনেমাটি দর্শকের ব্যাপক সাড়া পায় এবং ওই বছরের তেলুগু সিনেমার অন্যতম বড় সাফল্য হয়ে ওঠে। 

গল্পের কেন্দ্রে প্রেম থাকলেও এটি কেবল প্রেমের সিনেমা নয়। লন্ডনে বেড়ে ওঠা শহুরে তরুণ সন্তোষের সঙ্গে গ্রামের মেয়ে শ্রী’র প্রেম এবং সেই প্রেমকে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে শ্রী’র বড় ভাইয়ের কঠোর অবস্থান গল্পকে এগিয়ে নেয়। প্রেমিকাকে পাওয়ার জন্য সন্তোষকে শুধু শ্রীকে ভালোবাসলেই হয় না, প্রমাণ করতে হয় যে সে তার পরিবারের মূল্যবোধ ও সম্পর্ককেও সম্মান করতে পারে। 

এই জায়গাটিই সম্ভবত সিনেমাটিকে বিভিন্ন অঞ্চলের দর্শকের কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল। গল্পে ছিল প্রেম, পরিবার, ভাই-বোনের সম্পর্ক, আত্মসম্মান, গ্রাম ও শহরের জীবনযাপনের পার্থক্য। ফলে ভাষা বদলালেও গল্পের আবেগ খুব বেশি বদলানোর প্রয়োজন হয়নি। 

একে একে নয় ভাষায় 

সিনেমাটির সাফল্যের পর বিভিন্ন ভাষায় এর রিমেক হতে থাকে। ২০০৬ সালে প্রথমে কন্নড় ও তামিল ভাষায় রিমেক হয়। কন্নড় সংস্করণের নাম ছিল ‘নীনেল্লো নানাল্লে’। এতে মূল গল্পের প্রেম ও পারিবারিক দ্বন্দ্বকে কন্নড় দর্শকের উপযোগী করে উপস্থাপন করা হয়। একই বছর তামিল ভাষায় তৈরি হয় ‘উনাক্কুম এনাক্কুম’। এই সিনেমায় মূল ‘নুভ্বোস্তানান্তে নেনোদ্দান্তানা’র অভিনেত্রী ত্রিশা কৃষ্ণনও অভিনয় করেন। 

২০০৭ সালে গল্পটি পৌঁছে যায় বাংলা ও মণিপুরি ভাষায়। বাংলা সংস্করণের নাম ‘আই লাভ ইউ’। একই বছর মণিপুরি ভাষায় তৈরি হয় ‘নিংগোল থাজাবা’। অর্থাৎ মূল তেলুগু সিনেমার মুক্তির মাত্র দুই বছরের মধ্যেই গল্পটি ভারতের চারটি ভিন্ন ভাষার দর্শকের কাছে পৌঁছে যায়। 

এরপর ২০০৯ সালে ওড়িয়া ও পাঞ্জাবি ভাষায় আসে আরও দুটি সংস্করণ। ওড়িয়া সিনেমাটির নাম ‘সুনা ছাদেই মো রূপা ছাদেই’। পাঞ্জাবি সংস্করণের নাম ‘তেরি মেরি কি রিশতা’। দুটি সিনেমাতেই মূল গল্পের প্রেম ও পারিবারিক সম্পর্কের কাঠামো ধরে রেখে স্থানীয় সংস্কৃতি ও চরিত্রের সঙ্গে গল্পকে মানিয়ে নেওয়া হয়। 

২০১০ সালে এই গল্পের সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রও। শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস অভিনীত ‘নিঃশ্বাস আমার তুমি’ ছিল সিনেমাটির বাংলাদেশি বাংলা রিমেক। বদিউল আলম খোকন পরিচালিত এই সিনেমায় মূল গল্পের প্রেম, পারিবারিক টানাপোড়েন ও সম্পর্কের আবেগকে বাংলাদেশের দর্শকের উপযোগী করে তুলে ধরা হয়। 

একই বছর নেপালি ভাষায় তৈরি হয় ‘দ্য ফ্ল্যাশব্যাক: ফারকেরা হেরদা’। এর মাধ্যমে গল্পটি ভারতীয় উপমহাদেশের আরও একটি চলচ্চিত্রশিল্পে পৌঁছে যায়। 

সবশেষে ২০১৩ সালে আসে হিন্দি সংস্করণ ‘রামাইয়া বাস্তাভাইয়া’। এই সিনেমাটি পরিচালনা করেন প্রভু দেবাই। অর্থাৎ যে গল্প দিয়ে তিনি ২০০৫ সালে পরিচালক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন, আট বছর পর সেই গল্পই তিনি হিন্দি দর্শকের জন্য নতুন করে নির্মাণ করেন। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন গিরিশ কুমার ও শ্রুতি হাসান। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন সোনু সুদ। 

এভাবে তেলুগু থেকে শুরু করে কন্নড়, তামিল, বাংলা, মণিপুরি, ওড়িয়া, পাঞ্জাবি, বাংলাদেশি বাংলা, নেপালি ও হিন্দি ভাষায় গল্পটির নয়টি রিমেক তৈরি হয়। একেক সংস্করণে অভিনেতা, চরিত্রের নাম, গান, সংলাপ ও পরিবেশ বদলেছে, কিন্তু মূল গল্পের আবেগ থেকেছে প্রায় একই। 

কেন এতবার রিমেক? 

সিনেমাটির গল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত এর সরলতা। এখানে এমন কোনও নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট নেই, যা শুধু একটি অঞ্চলের দর্শক বুঝতে পারবে। প্রেমের জন্য লড়াই, পরিবারের সম্মতি পাওয়ার চেষ্টা, ভাই-বোনের টান, সামাজিক অবস্থানের পার্থক্য এবং নিজের যোগ্যতা প্রমাণের মতো বিষয় প্রায় সব সমাজেই পরিচিত। 

আরেকটি বড় কারণ, গল্পটিকে স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নেওয়া যায়। তাই তেলুগুর সন্তোষ ও শ্রী যখন তামিল, কন্নড়, বাংলা, পাঞ্জাবি কিংবা বাংলাদেশি বাংলায় নতুন নামে হাজির হয়েছেন, তখনও দর্শকের কাছে মূল আবেগটি অপরিচিত হয়ে ওঠেনি। 

মূল সিনেমাটিও ছিল পুরস্কার ও ব্যবসায়িক সাফল্যে এগিয়ে। ২০০৬ সালের ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস সাউথে সিনেমাটি একাধিক পুরস্কার জেতে। অভিনয়ের জন্য সিদ্ধার্থ ও ত্রিশা কৃষ্ণনও প্রশংসিত হন। 

একটি সিনেমার গল্প যখন একের পর এক ভাষায় নতুন করে বলা হয়, তখন সেটি শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যের গল্প থাকে না। হয়ে ওঠে একটি গল্পের সাংস্কৃতিক সীমা পেরিয়ে যাওয়ার উদাহরণ। ‘নুভ্বোস্তানান্তে নেনোদ্দান্তানা’র ক্ষেত্রে সেই যাত্রা তেলুগু সিনেমা থেকে শুরু হয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশেও পৌঁছেছে। 

২০০৫ সালের সেই প্রেমের গল্প তাই আজও রিমেকের ইতিহাসে আলাদা করে আলোচিত। একটি গল্প, নয়টি ভাষা, নয়টি নতুন সংস্করণ, কিন্তু আবেগের জায়গায় একই প্রেম। 

/ইউএস/
সম্পর্কিত
বিনোদন বিভাগের সর্বশেষ
শাহরুখের মান্নাতে জোড়া সাপ, একটির খোঁজ নেই! 
শাহরুখের মান্নাতে জোড়া সাপ, একটির খোঁজ নেই! 
যে সিনেমা ৯ ভাষায় রিমেক হয়েছিল
যে সিনেমা ৯ ভাষায় রিমেক হয়েছিল
৫ দিনেই আয় ১৪৪ কোটি: ‘আওয়ারাপান ২’ দিয়ে বক্স অফিসে রাজত্ব ইমরান হাশমির
৫ দিনেই আয় ১৪৪ কোটি: ‘আওয়ারাপান ২’ দিয়ে বক্স অফিসে রাজত্ব ইমরান হাশমির
সিনেমার প্রচারণায় কান্না, অবশেষে কারণ জানালেন অনুপমা
সিনেমার প্রচারণায় কান্না, অবশেষে কারণ জানালেন অনুপমা
ছোটপর্দার নাগিন এ বার বড়পর্দায়, জানালেন একতা কাপুর
ছোটপর্দার নাগিন এ বার বড়পর্দায়, জানালেন একতা কাপুর