রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন ও শোক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রংপুর জিলা স্কুল এক্স-স্টুডেন্টস ক্লাবের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে স্কুলটির শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
সকাল ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে শোক র্যালি প্রদক্ষিণ করে পুলিশ বক্সের সামনে সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৃষিবিদ আবদুল বারী, সাবেক অতিরিক্ত সচিব শওকত আলী, ড. আরেফিন অমল বাগচী ও রাকিকুজ্জামান বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, শান্তির শহর রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় তারা স্তম্ভিত। অতীতে রংপুরে একই পরিবারের চার জনকে একসঙ্গে হত্যার এমন ঘটনা ঘটেনি। এ হত্যাকাণ্ড রংপুরবাসীর মধ্যে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে। ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তের নামে কোনও ধরনের তালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না। রংপুরবাসী রক্ত দিতে জানে, ন্যায়বিচারের দাবি আদায় করতেও জানে। প্রয়োজনে এ দাবিতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মসহ নিহত চার জনের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে নিহত গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের মরদেহ বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে চার জনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তে উঠে এসেছে। মা ও মেয়ের শরীরে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের কোনও আলামত পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় ওই দুই তরুণ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করে এবং পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা করে।
তবে পুলিশের এ বক্তব্য নিয়ে নিহত পরিবারের স্বজন ও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাটির সব দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এ অবস্থায় মামলাটির তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সময়, হত্যার ধরন ও বিভিন্ন আলামত যাচাই করে দেখছেন।
রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বলেন, একজন শিক্ষক ও তার স্ত্রী-সন্তানদের এভাবে হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করলেই নিহত পরিবারের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে।

৪ খুনের ঘটনায় গ্রেফতার আসামিদের বন্ধু আদালতে কী বললেন?
রংপুরে চার খুন: এবার পুলিশ ও চিকিৎসকের বক্তব্যে অমিল, তদন্ত কোন পথে?







