মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের উপপ্রধানকে সরিয়ে দিতে উত্তরসূরি খুঁজছে হোয়াইট হাউস: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪২আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের উপপ্রধান স্টিভ ফেইনবার্গকে সরিয়ে তার স্থলাভিষিক্ত করার জন্য প্রার্থীদের বিষয়ে পর্যালোচনা করেছে হোয়াইট হাউস। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে ফেইনবার্গকে সরিয়ে দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুন থেকেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে এই প্রক্রিয়া চলছিল। নির্বাচিত প্রার্থীদের সিনেটে অনুমোদন পাওয়ার মতো সমর্থন রয়েছে কি না, তা নিয়ে সিনেটের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছেন, আগস্টের শেষ দিকেও সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে পর্যালোচনা চলছিল। তবে হোয়াইট হাউস ঠিক কখন থেকে ফেইনবার্গের বিকল্প খোঁজা শুরু করে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।

তিন সূত্রই জানিয়েছে, ফেইনবার্গকে তার পদ থেকে সরানোর বিষয়ে এখনো কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। কেন তার বিকল্প খোঁজা হচ্ছে, সে বিষয়েও তারা কোনও কারণ জানাননি। সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের নামও প্রকাশ করা হয়নি।

তবে হোয়াইট হাউস এই খবর প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, এসব ‘বেনামি সূত্র’ কী নিয়ে কথা বলছে, সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেইনবার্গ এবং পুরো প্রতিরক্ষা দফতরের কাজের প্রশংসা করেন।

পেন্টাগনও ফেইনবার্গকে সরিয়ে দেওয়ার কোনও প্রক্রিয়া চলার কথা অস্বীকার করেছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেন, ফেইনবার্গের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং তিনি ‘কোথাও যাচ্ছেন না’।

ফেইনবার্গকে সরানো হলে তা হেগসেথের অধীনে পেন্টাগনের সাম্প্রতিক নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে বড় পদত্যাগ বা অপসারণ হতে পারে। ফেইনবার্গ বেসরকারি ইক্যুইটি প্রতিষ্ঠান সারবেরাস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং একজন বিলিয়নিয়ার।

হেগসেথের দায়িত্ব নেওয়ার পর পেন্টাগনে একের পর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদ ছাড়ছেন। চলতি সপ্তাহে সেনাবাহিনীর সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল পদত্যাগ করেছেন। এর আগে নৌবাহিনীর সেক্রেটারি জন ফেলান এবং সেনাবাহিনীর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দায়িত্ব ছেড়েছেন।

ইরান যুদ্ধ ও অস্ত্রের মজুত নিয়ে অসন্তোষ

ফেইনবার্গের সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের সঙ্গে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে আসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, কিছু ধরনের গোলাবারুদের উল্লেখযোগ্য ঘাটতির মুখে পড়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বিষয়টি কংগ্রেসের সদস্য ও সামরিক নেতাদের উদ্বিগ্ন করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য এসব উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের সঙ্গে এক আলোচনায় হেগসেথ দীর্ঘপাল্লার গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে যাওয়ার জন্য ফেইনবার্গকে দায়ী করেছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে হোয়াইট হাউস ওই প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেলও বলেছেন, হেগসেথ অস্ত্রের মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে কাউকে বিভ্রান্ত করেননি এবং ফেইনবার্গকে দায়ীও করেননি।

ফেইনবার্গ গত বছর ট্রাম্পের নিয়োগে প্রতিরক্ষা দপ্তরের উপপ্রধানের দায়িত্ব নেন। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে এখনও সক্ষম হয়নি। প্রতিরক্ষা খাতের কয়েকজন নির্বাহীও বলেছেন, কংগ্রেসের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের ধীরগতির কারণে ফেইনবার্গের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফেইনবার্গ পেন্টাগনের নীতিতেও পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়াতে প্রতিরক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরাসরি বিনিয়োগ এবং সামরিক ঠিকাদারদের ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। গত ১৮ আগস্ট প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে পাঠানো এক স্মারকে উৎপাদনের গতি বাড়ানো এবং পণ্যের মূল্য নির্ধারণে আরও স্বচ্ছতা আনার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে ফেইনবার্গের সাবেক প্রতিষ্ঠান সারবেরাস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়েও কংগ্রেসে প্রশ্ন উঠেছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন অভিযোগ করেছেন, পেন্টাগনের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির ব্যয়ে সারবেরাস লাভবান হতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

পেন্টাগনের মুখপাত্র পার্নেল অবশ্য বলেছেন, ফেইনবার্গ ও সারবেরাসের মধ্যে কোনও স্বার্থের সংঘাত নেই। তার দাবি, ফেইনবার্গ সারবেরাস থেকে পুরোপুরি নিজের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করেছেন এবং নির্বাহী শাখা ও সারবেরাসের মধ্যকার কোনো আলোচনা বা ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিষয়ে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, ফেইনবার্গের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও তাকে এখনই সরিয়ে দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। একইসঙ্গে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন প্রকাশ্যে তার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।

/আইএএম/
সম্পর্কিত
ইরানের তেলবাহী ট্যাঙ্কারে যেকারণে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
কিয়েভে তিনদিনের জন্য হামলা বন্ধের নির্দেশ দিলেন পুতিন
সর্বশেষ খবর
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ইউআইইউতে চালু হলো ১৮ এসি বাস
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ইউআইইউতে চালু হলো ১৮ এসি বাস
ভোলার গ্যাস কতদূর
ভোলার গ্যাস কতদূর
ছায়ানটে মিতা হককে স্মরণ
ছায়ানটে মিতা হককে স্মরণ
ছয় দফা না মানলে এক দফায় রূপান্তরিত হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ছয় দফা না মানলে এক দফায় রূপান্তরিত হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
সর্বাধিক পঠিত
বন্ধ হয়ে গেলো ১৮ বছর ধরে চলা দূরপাল্লার বাস সার্ভিস
বন্ধ হয়ে গেলো ১৮ বছর ধরে চলা দূরপাল্লার বাস সার্ভিস
পরীমণির প্রথম সিনেমায় পারিশ্রমিক কত ছিল
পরীমণির প্রথম সিনেমায় পারিশ্রমিক কত ছিল
বিশ্বের নতুন মানচিত্র অনুমোদন দিলো জাতিসংঘ
বিশ্বের নতুন মানচিত্র অনুমোদন দিলো জাতিসংঘ
সরকার যাত্রা শুরুর ছয় মিনিটের আগেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: মামুনুল হক
সরকার যাত্রা শুরুর ছয় মিনিটের আগেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: মামুনুল হক
সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনামূল্যে দেখা যাবে তিন সিনেমা
সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনামূল্যে দেখা যাবে তিন সিনেমা