অল্প পানিতেই ফলবে সোনালী ধান, কৃষিতে নতুন আশার আলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১১ আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১১

শৈশব থেকেই মানুষের কাছে পরিচিত দৃশ্য- গোড়ালি সমান পানিতে থইথই করা প্লাবিত ধানের ক্ষেত। তবে প্লেটের ভাত হয়ে ওঠার আগে সপ্তাহের পর সপ্তাহ পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা এই ধানের পেছনে রয়েছে বিপুল পরিমাণে পানির খরচ। আর এই সমস্যা সমাধানেই এবার নজর দিয়েছে ভারতের অন্যতম খ্যাতনামা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইআইটি মাদ্রাজ।

আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক অধ্যাপক ভি কামাকোটি ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, আইআইটি মাদ্রাজ প্রিসিশন এগ্রিকালচার বা নিখুঁত কৃষিকাজের ওপর কাজ করছে। এমন নিখুঁত পদ্ধতি, যেখানে আমি ন্যূনতম পরিমাণ পানি ব্যবহার করে ধান, আখ ইত্যাদি চাষ করতে পারব।

ভারতের কৃষিখাতের সবচেয়ে বড় অথচ কম আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো এটি। ধান চাষ মূলত জলের নিচে হয়ে থাকে। আগাছা দমনে ক্ষেত প্লাবিত রাখা হয়, তবে মানবজাতির খাবার উৎপাদনের এটি অন্যতম পানিনাশী পদ্ধতি।

একটি বিস্তারিত গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে এক কেজি ধান উৎপাদনে গড়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার লিটার পানির প্রয়োজন হয়। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মতো অঞ্চলে যেখানে কৃষকরা বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা না করে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করেন, সেখানে এই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ২৭০ থেকে ২ হাজার ৬৭২ লিটারে। ভারতের মোট ব্যবহৃত স্বাদু পানির প্রায় ৯০ শতাংশই যায় কৃষিকাজে, যার বড় অংশ গ্রাস করে ধান ও আখের মতো ফসল।

অধ্যাপক কামাকোটি যে কাজের কথা বলেছেন, তার মূল কেন্দ্র হতে পারে ‘মিশন প্রবর্তক’। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অর্থায়নে এটি আইআইটি মাদ্রাজের নিজস্ব টেকনোলজি ইনোভেশন হাব। এর মূল কাজ সেন্সর, নেটওয়ার্ক এবং কন্ট্রোল সিস্টেম নিয়ে কাজ করা, যা প্রিসিশন ফার্মিংয়ের অন্যতম হাতিয়ার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে প্রিসিশন এগ্রিকালচার নিয়ে কানাডিয়ান অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ কর্মশালাও করেছে প্রবর্তক।

প্রিসিশন এগ্রিকালচারের মূল কথা হলো একটি গাছকে ঠিক যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই পানি দেওয়া, এক ফোঁটাও বেশি নয়। মাটিতে পোঁতা সেন্সর আর্দ্রতা মেপে বলে দেয় ক্ষেতের পানির প্রয়োজন আছে কি না। এছাড়া ড্রিপ ইরিগেশনের মাধ্যমে সরাসরি শিকড়ে সামান্য মাপা পানি পৌঁছে দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্যাটেলাইট ও ড্রোনের মাধ্যমে ক্ষেতের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

বিশেষ করে ধানের ক্ষেত্রে ‘অলটারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং’ পদ্ধতির মাধ্যমে পানির ব্যবহার নাটকীয়ভাবে কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। অর্থাৎ ক্ষেত সবসময় জলের নিচে না রেখে মাঝেমধ্যে সামান্য শুকিয়ে নেওয়া। এতে ফসল না কমিয়েই অনেক কম পানি ব্যবহার করা যায়।

ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহারকারী দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উষ্ণতা বাড়ায় পানির সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ফলে ১০০ কোটির বেশি জনসংখ্যার এই দেশকে পানির ভাণ্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে প্রিসিশন ফার্মিং অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। আইআইটি মাদ্রাজের মতো প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ধানক্ষেতে এই প্রযুক্তি সফল করতে পারে, তবে তার ফলাফল পরিমাপ করা হবে সরাসরি ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের মাধ্যমে। 

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

/এএস/ 
সম্পর্কিত
জেলেনস্কি নামক ‘দুর্ভাগ্যজনক ছোট সমস্যাটি’র সমাধান করতে ট্রাম্পকে আহ্বান মেদভেদেভের
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেবে এক মুসলিম দেশ
সর্বশেষ খবর
শ্রীলঙ্কার কাছে হারলো বাংলাদেশ
শ্রীলঙ্কার কাছে হারলো বাংলাদেশ
শাহাদাতকে প্রশাসক করায় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত: এনসিপি নেতা আরিফ
শাহাদাতকে প্রশাসক করায় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত: এনসিপি নেতা আরিফ
ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ
ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ
পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানালেন নাহিদ ইসলাম
পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানালেন নাহিদ ইসলাম
সর্বাধিক পঠিত
মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি
মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি
ভোট দেওয়া নিয়ে অনুশোচনা ও বিএনপি সরকারের সমালোচনা করা নারী আটক
ভোট দেওয়া নিয়ে অনুশোচনা ও বিএনপি সরকারের সমালোচনা করা নারী আটক
‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী থাকবে’ বলা এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার
‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী থাকবে’ বলা এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার
‘আমাদের নীরব কান্না দেখার মতো কেউ নেই’
‘আমাদের নীরব কান্না দেখার মতো কেউ নেই’
পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত, ১৬ ডিগ্রিতে নামলো তাপমাত্রা
পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত, ১৬ ডিগ্রিতে নামলো তাপমাত্রা