চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগে ক্ষুব্ধ জামায়াত আমির, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট  
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:২৮আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:২৮

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইবা) নম্বর বাড়িয়ে দলীয় আনুকূল্যের পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মেধাকে কবর দেওয়ার উদ্যোগ নিলে নতুন আন্দোলন হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শেষ দিন রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সবশেষ আন্দোলন শুরু হয়েছিল মেধার স্বীকৃতির দাবিতে। আবার সেই মেধাকে কবর দেওয়ার জন্য নতুন একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভাইবার নম্বর বাড়িয়ে এখানে দলীয় আনুকূল্যের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, এরই মধ্যে ছাত্র ও যুবসমাজের পক্ষ থেকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভাইবার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ‘হতে পারে এটাই আরেকটা বড় আন্দোলনের’ কারণ—উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এটা চাই না।’

তিনি বলেন, যে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আজকের সরকার ও এই সংসদ এসেছে, একই ধরনের কারণে দেশে আরেকটি আন্দোলন হোক—এটা তারা চান না। তবে সরকার সিদ্ধান্ত সংশোধন করে ফিরে না এলে আন্দোলন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সমাপনী বক্তব্যে বৈষম্য না করার আহ্বান

এর আগে বৃহস্পতিবার সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে মেধা, দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়নের আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান। একইসঙ্গে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

সমাপনী বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বৈষম্যহীন সমাজের প্রত্যাশা থাকলেও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এখনও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সরকারি ও বিরোধী দলের নারী সংসদ সদস্যদের ফান্ড বরাদ্দ এবং দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও বৈষম্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। উন্নয়নকে ভোটের সঙ্গে যুক্ত না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন জনগণের অধিকার।

চাকরির নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তনের প্রসঙ্গও সমাপনী বক্তব্যে তোলেন তিনি। তরুণ সমাজের প্রতিবাদের কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যা চলে আসছে সেটাই বহাল রাখি। মেরিটকে সবাই মিলে সম্মান করি। মেরিটোরিয়াসরা এসে আমাদের আগামী সমাজটা বিল্ড আপ করে দেব। ... এই ক্ষেত্রে আমরা কোনও দলীয় আনুকূল্য দেখতে চাই না।’

দুর্নীতি নির্মূলের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সমাজ থেকে দুর্নীতি নির্মূল না করলে দেশ মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারবে না। ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারের দুরবস্থা তুলে ধরে এসব প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে উপযুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালনার দাবি জানান তিনি।

শিক্ষা খাতে প্রতিষ্ঠান দখল, নকল প্রশ্ন, গেস্টরুম-গণরুম ও শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। একইসঙ্গে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নয়, নির্মূলের জন্য দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

শিল্প খাতের সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে কোনও কোনও ক্ষেত্রে উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। শিল্প খাত রক্ষায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দের আহ্বান জানিয়ে প্রয়োজনে অন্য খাত থেকে কাটছাঁট করে হলেও শিল্পকে রক্ষার কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গ তুলে নিজের নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ আসনে অবস্থিত সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের জনবল সংকটের কথাও সমাপনী বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটিতে চতুর্থ থেকে নবম গ্রেডের ৫০টি পদের বিপরীতে ১২ জন এবং ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডের ৫৫টি পদের বিপরীতে ২২ জন কর্মরত আছেন বলে জানান তিনি। শূন্য পদগুলো পূরণের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান।

বিরোধী দল হিসেবে সরকারের ভালো কাজ হলে সমর্থন এবং ভুল হলে প্রতিবাদ করার কথা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তারা দায়িত্বশীলভাবে ভূমিকা পালন করবেন। প্রশাসনকে দলীয়করণ থেকে বিরত রাখা, বৈষম্য দূর করা, মানুষের বাঁচার দাবি, শিল্প রক্ষা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট সমাধানসহ তাদের বিভিন্ন দাবি জনগণের দাবি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত আইন নিয়েও আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় নেতা। সংসদীয় কমিটিতে কোরআন ও হাদিসের রেফারেন্স দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে উল্লেখ করে সরকারকে আইনটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

সম্প্রতি বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে রাতের মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি কোনও দলীয় স্বার্থের কর্মসূচি ছিল না; জনগণের বিভিন্ন দাবি নিয়েই তারা এ কর্মসূচি পালন করেছেন। সরকার আলোচনায় বসে জনগণের দাবি মেনে নিলে লংমার্চের প্রয়োজন হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাংবাদিকদের সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। একইসঙ্গে বিরোধী দল ভুল পথে গেলে সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

/এসএমএ/এম/
সম্পর্কিত
সংসদে জামায়াত আমিরজননন্দিত ‘শেখ মুজিব’ই জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের কবর দেন’ 
সংসদে জামায়াত আমির‘ভারত শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক অপতৎপরতার সুযোগ দেওয়ায় আমরা ব্যথিত’
র‌্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিলাম, নাম বদলে একই বাহিনী চাইনি: শফিকুর রহমান
সর্বশেষ খবর
এক ভবন থেকে ৭০ বিদেশি নাগরিক আটক, কী করছিলেন তারা
এক ভবন থেকে ৭০ বিদেশি নাগরিক আটক, কী করছিলেন তারা
চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর চিন্তা অবিবেচনাপ্রসূত: ছাত্র ইউনিয়ন
চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর চিন্তা অবিবেচনাপ্রসূত: ছাত্র ইউনিয়ন
রূপপুরে আগুন নিয়ে উদ্বেগ নেই, অনিশ্চিত বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়
রূপপুরে আগুন নিয়ে উদ্বেগ নেই, অনিশ্চিত বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়
ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু, ছিনতাইয়ের পর মাদ্রাসাছাত্রকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ
ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু, ছিনতাইয়ের পর মাদ্রাসাছাত্রকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
কোথায় গেলো হাওরের মাছগুলো?
কোথায় গেলো হাওরের মাছগুলো?
ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক প্রধানের পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
রয়টার্স এক্সক্লুসিভডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক প্রধানের পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
এখন সুযোগ পেলে কাকে নায়িকা হিসেবে চান আলমগীর, জানালেন নিজেই
এখন সুযোগ পেলে কাকে নায়িকা হিসেবে চান আলমগীর, জানালেন নিজেই
কানাডায় ববিতার ৩৬ ঘণ্টার সড়ক ভ্রমণ, সঙ্গে ছিলেন রাজ্জাকের ছেলে
কানাডায় ববিতার ৩৬ ঘণ্টার সড়ক ভ্রমণ, সঙ্গে ছিলেন রাজ্জাকের ছেলে
মান্না-পূর্ণিমা জুটির প্রথম ও শেষ সিনেমা কোনটি
মান্না-পূর্ণিমা জুটির প্রথম ও শেষ সিনেমা কোনটি