গলছে হিমালয়ের বরফ, ঝুঁকিতে ভারতের অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:১২আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:১২

হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া, হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদগুলোর অস্থিরতা বৃদ্ধি এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততার কারণে অঞ্চলটি এক বিপজ্জনক ঝুঁকির দিকে এগোচ্ছে। গ্লোবাল কনসালট্যান্সি সিস্টেমিক, ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ইনিশিয়েটিভ, ইসিমোড ও জিবি পান্ত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হিমালয়ান এনভায়রনমেন্টের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। নেপাল ও তিব্বতের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরপরই এই গবেষণা রিপোর্টটি প্রকাশ করা হলো।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এক দশক আগের তুলনায় হিমালয়ের হিমবাহগুলো এখন ৬৫ শতাংশ দ্রুতগতিতে বরফ হারাচ্ছে। অথচ হিমালয়-কারাকোরাম অঞ্চলের আনুমানিক ৪০ হাজার হিমবাহের মধ্যে মাত্র ২১টি দীর্ঘমেয়াদে বিশদভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই পর্যবেক্ষণ ঘাটতির কারণে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ভারতের মাত্র ১৮ শতাংশ ভূখণ্ড হিমালয় অঞ্চলে হলেও দেশের মোট দুর্যোগের প্রায় ৩৫ শতাংশই এই অঞ্চলে ঘটে থাকে। ২০২৫ সালের এক বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের পর ভারতীয় হিমালয় অঞ্চলের ১৮৯টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদের মধ্যে ৫৬টিকে অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে সিকিমে এবং ২০২১ সালে উত্তরাখণ্ডে হিমবাহ ধসে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

অর্থনৈতিক দিক থেকে এই সংকট অত্যন্ত মারাত্মক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিমালয়ের পানি ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২০ শতাংশের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে; যা গম, ধান, চা, জলবিদ্যুৎ এবং তীর্থযাত্রানির্ভর অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের জলবায়ু গবেষক লর্ড নিকোলাস স্টার্ন সতর্ক করে বলেন, হিমালয় হলো পৃথিবীর ‘তৃতীয় মেরু’। উত্তর বা দক্ষিণ মেরুর মতো নয়, এই মেরুর ঠিক নিচে শত কোটি মানুষ বাস করে।

সিস্টেমিকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ও প্রধান লেখক আরুশি চোপড়া বলেন, হিমালয় এক সংকটময় মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা ঝুঁকিতে রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, হিমালয়ের হিমবাহ গলে যাওয়ার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী ইটভাটা থেকে নির্গত ব্ল্যাক কার্বন।

ইসিমোড-এর মহাপরিচালক পেমা গ্যাম্তশো বলেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ কোনও জাতীয় সীমানা মানে না এবং একক কোনও দেশের পক্ষে তা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

সংকট নিরসনে কার্বন নিঃসরণ কমানো, দুর্যোগের পূর্বাভাস ব্যবস্থা উন্নত করা এবং পর্যটন নীতি পুনর্বিন্যাসের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

সূত্র: বিবিসি

/এএ/
সম্পর্কিত
যুক্তরাজ্য ভেঙে দিতে চায় তিন দেশ, হলো চুক্তি
মাইকের শব্দ বন্ধ করে শকুনের সংখ্যা বাড়ালো গ্রামটি
মদের জন্য মাঝআকাশে যাত্রীর তাণ্ডব, ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে কামড় ও লাথি
সর্বশেষ খবর
চামড়া, জাহাজ নির্মাণ ও হালকা প্রকৌশলে জার্মান বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ
চামড়া, জাহাজ নির্মাণ ও হালকা প্রকৌশলে জার্মান বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ
সেই বিদ্যালয়ে আবারও শিক্ষার্থীরা অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি ২০ জন
সেই বিদ্যালয়ে আবারও শিক্ষার্থীরা অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি ২০ জন
নিরাপত্তা শঙ্কায় এনবিআর ভবনে প্রবেশে কড়াকড়ি
নিরাপত্তা শঙ্কায় এনবিআর ভবনে প্রবেশে কড়াকড়ি
যুক্তরাজ্য ভেঙে দিতে চায় তিন দেশ, হলো চুক্তি
যুক্তরাজ্য ভেঙে দিতে চায় তিন দেশ, হলো চুক্তি
সর্বাধিক পঠিত
উত্তরার অফিস থেকে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার
উত্তরার অফিস থেকে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার
চার্জার খালি পড়ে থাকলেও কি বিদ্যুৎ খরচ হয়
চার্জার খালি পড়ে থাকলেও কি বিদ্যুৎ খরচ হয়
এনআইডি ও মোবাইলের কল ডিটেইল রেকর্ড বিক্রয়কারী গ্রেফতার
এনআইডি ও মোবাইলের কল ডিটেইল রেকর্ড বিক্রয়কারী গ্রেফতার
ব্যাংক খাতে অদক্ষ এমডি বাছাই শুরু, চাকরি হারাচ্ছেন কারা
ব্যাংক খাতে অদক্ষ এমডি বাছাই শুরু, চাকরি হারাচ্ছেন কারা
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গুলি করা ব্যক্তির নাম জানালেন মোজাফফর
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গুলি করা ব্যক্তির নাম জানালেন মোজাফফর