অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর মাত্র ছয় দিন আগে, ২০২০ সালের জুনে সামনে এসেছিল তার সাবেক ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর খবর। মুম্বাইয়ের মালবাণীর একটি বহুতলের ১২ তলা থেকে পড়ে ২৪ বছর বয়সী দিশার মৃত্যু ঘিরে তখনই শুরু হয়েছিল নানা জল্পনা।
এতদিন ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হলেও ছয় বছর পর হাই-প্রোফাইল এই মামলায় নতুন মোড় এসেছে। বম্বে হাই কোর্টের নির্দেশের পর সোমবার (১৪ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার তদন্তভার নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। একই সঙ্গে নতুন করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
এফআইআরে গণধর্ষণ, খুন, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং পুলিশি নথিতে কারচুপির মতো গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দিশার বাবা সতীশ সালিয়ানের অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলাটি সিবিআইয়ের হাতে যায়। গত শুক্রবার সিবিআইয়ের কাছে নিজের বক্তব্য রেকর্ড করেন তিনি। পরে সতীশ জানান, মামলায় জড়িত একাধিক ব্যক্তির বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থাকে তথ্য দিয়েছেন।
সতীশ সালিয়ানের আইনজীবী নিলেশ ওঝার দাবি, তার মক্কেল বক্তব্যে অভিযোগ করেছেন, দিশাকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছিল এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়।
তার আরও অভিযোগ, অপরাধ আড়াল করতে তৎকালীন কয়েকজন প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্য ব্যক্তিরা ভূমিকা রেখেছিলেন এবং তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হয়েছিল।
এফআইআরে একাধিক রাজনৈতিক নেতা, অভিনেতা, পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্য ব্যক্তির নাম থাকার কথা জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আদিত্য ঠাকরে, উদ্ধব ঠাকরে, অনিল দেশমুখ, সূরজ পঞ্চোলি, ডিনো মোরিয়া, রিয়া চক্রবর্তী, শৌভিক চক্রবর্তী এবং দিশার বাগদত্তা রোহন রায়।
তবে এফআইআরে কারও নাম থাকা মানেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

ইতালিতে হেনস্তার ঘটনার পর কী কী হলো, জানালেন বাঁধন


