শুরুটা এমন হলে ইতিহাসের স্বপ্ন দেখতেই পারে বার্সেলোনা। নতুন মৌসুমে হান্সি ফ্লিকের দল যেন থামতে চাইছে না। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে টানা ছয় জয়। এবার সামনে অপেক্ষা করছে এমন এক মাইলফলক, যা বার্সেলোনার ইতিহাসে আগে কেউ করতে পারেনি।
২০২৬-২৭ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচ খেলেছে বার্সা, জিতেছে প্রতিটিতেই। লা লিগায় এলচে, অ্যাথলেতিক ক্লাব, রায়ো ভায়েকানো, ভ্যালেন্সিয়া ও লেভান্তেকে হারানোর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ফেইনুর্ডকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে তারা। ছয় ম্যাচে ছয় জয়। তাতে মৌসুমের শুরুতেই বার্সেলোনা উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
এই দারুণ সূচনায় ক্লাবটির ইতিহাসের আরও তিনটি সফল দলের পাশে দাঁড়িয়েছে ফ্লিকের দল। বার্সেলোনার ইতিহাসে এর আগে মাত্র তিনটি দল মৌসুমের প্রথম ছয় প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ জিততে পেরেছিল।
প্রথমবার এমন কীর্তি হয়েছিল প্রায় এক শতাব্দী আগে, ১৯২৯-৩০ মৌসুমে। জেমস বেলামির দল মৌসুম শুরু করেছিল টানা ছয় জয়ে। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে লুবিসা ব্রোসিচের দলও সেই কীর্তি গড়ে। লা লিগার প্রথম চার ম্যাচ জয়ের পর ইউরোপিয়ান কাপে বেলজিয়ান ক্লাব লিয়ের্সের বিপক্ষে দুই লেগেই জিতেছিল তারা।
এর পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর, ২০১৮-১৯ মৌসুমে আর্নেস্তো ভালভার্দের বার্সেলোনা ছয় ম্যাচের এই জয়যাত্রার পুনরাবৃত্তি করে। সেই দলের বিশেষত্ব ছিল তিনটি আলাদা প্রতিযোগিতায় ছয় জয়। সেভিয়ার বিপক্ষে স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের পর লা লিগায় টানা চার জয় এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসভি আইন্দহোভেনকে ৪-০ গোলে হারিয়েছিল বার্সা।
তবে একটি জায়গায় তিন দলই থেমে গিয়েছিল। প্রথম ছয় ম্যাচ জয়ের পর সপ্তম ম্যাচে আর জয়ের দেখা পায়নি কেউ। ১৯২৯-৩০ সালের দলটি লেস কর্তস স্টেডিয়ামে অ্যাথলেতিক ক্লাবের কাছে পয়েন্ট হারায়। ১৯৬০-৬১ মৌসুমের দল হারে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে মেত্রোপলিতানোতে। আর ভালভার্দের বার্সাকে থামিয়ে দিয়েছিল জিরোনা। ম্যাচটি শেষ হয়েছিল ২-২ গোলে।
এবার সেই ইতিহাস বদলানোর সুযোগ ফ্লিকের দলের সামনে। সর্বশেষ ম্যাচে লেভান্তের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়টি অবশ্য খুব সহজ ছিল না। ভ্যালেন্সিয়ায় কঠিন লড়াইয়ের পর জয় পেয়েছে বার্সা। লামিনে ইয়ামাল করেছেন জোড়া গোল। অন্য দুটি গোল করেছেন জাভি এসপার্ট ও করিম আদেয়েমি। এই জয়ে লা লিগায় টানা পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয় নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বার্সা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে এগিয়ে তিন পয়েন্টে।
তবে লেভান্তের বিপক্ষে বার্সার কিছু দুর্বলতাও সামনে এসেছে। দীর্ঘ সময় নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শেষ দিকে ইভান রোমেরো ও রজার ব্রুগের গোল ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে। শেষ মুহূর্তগুলোতে তাই অস্বস্তিতে পড়তে হয় বার্সাকে।
ম্যাচ শেষে ফ্লিকও স্বীকার করেছেন, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে এটি দলের সেরা পারফরম্যান্স ছিল না। তবে জয় নিয়ে সন্তুষ্ট তিনি। একই সঙ্গে আরও উন্নতির প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন।
মাঝমাঠে রদ্রির নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স এবং অধিনায়ক রাফিনিয়ার অবিরাম দৌড়ও লেভান্তের বিপক্ষে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আর আক্রমণে ইয়ামালের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বার্সাকে কঠিন সময় পার করে জয়ের ধারায় রেখেছে। এবার সামনে আরেক ইতিহাসের অপেক্ষা।
বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টা ৩০ মিনিটে রেসিংয়ের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। সেই ম্যাচ জিতলেই মৌসুমের প্রথম সাত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে টানা জয় পাবে ফ্লিকের দল। ছয় ম্যাচের জয় দিয়ে যেসব বার্সেলোনা দল ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে, তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে তারা।









