দিল্লির এক যুবককে হত্যার পর তার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে পরিবারের কাছে আমি ভালো আছি বার্তা পাঠিয়েছিল খুনি দম্পতি। তিন দিন পর গুরগাঁওয়ের একটি নালা থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত যুবকের নাম যুবরাজ সিং মানচন্দা। এক মাস পর তার বিয়ে করার কথা ছিল। ৬ সেপ্টেম্বর সাবেক সহকর্মী আনিয়া ভাটসের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের কথা বলে গুরগাঁওয়ে যান তিনি। এর আগে বোন ও বাগদত্তার সঙ্গে বিয়ের শেরওয়ানি কেনাকাটাও করেছিলেন।
পরিবার জানিয়েছে, যুবরাজ এরপর আর ফোন করেননি। ৮ সেপ্টেম্বর তার ফোন থেকে পরিবারের সদস্যরা বার্তা পান, তিনি ভালো আছেন এবং শিগগিরই ফিরবেন। পরে ফেরার দিনও পিছিয়ে দেন। সন্দেহ হওয়ায় তার বোন ভিডিও কল করতে বললেও কোনও সাড়া পাননি। ১১ সেপ্টেম্বর লাজপত নগর থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশের দাবি, আনিয়া ও তার স্বামী সানিয়াম সচদেবা প্রথমে যুবরাজকে তার গাড়ি এক জায়গায় রাখতে বলেন। এরপর তাকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেন। গাড়ি চালাচ্ছিলেন সানিয়াম এবং যুবরাজের পেছনে বসেছিলেন আনিয়া। কিছুক্ষণ পর আনিয়া বন্দুক বের করে যুবরাজের ঘাড়ে গুলি করেন। পরে মরদেহটি নালায় ফেলে দেন।
পুলিশের ধারণা, আর্থিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। যুবরাজ ও ওই দম্পতি আগে একই আবাসন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে আনিয়াকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে তিনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি যুবরাজের কিছু আবাসন ব্যবসার কাজে সহায়তা করছিলেন।
যুবরাজের পরিবার অভিযোগ করেছে, ১০ সেপ্টেম্বরই গুরগাঁও পুলিশ মরদেহটি পেয়েছিল, কিন্তু তাদের জানানো হয়নি। এমনকি অজ্ঞাত মরদেহ শনাক্তের সরকারি পোর্টাল জিপনেটে সময়মতো তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। ১৪ সেপ্টেম্বর মরদেহটি দাহ করে পুলিশ। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর পরিবারকে তার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।
পরিবার পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন, তদন্তের নথি, ছবি, ডিএনএ নমুনা ও যুবরাজের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সংরক্ষণ করে তাদের কাছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি

চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ







