বাজারে আসার এক মাসও পার হয়নি। এর মধ্যেই আইফোন ১৮ প্রো-এর রং বদলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবহারকারী। তাদের দাবি, নতুন ফোনের পেছনের ক্যামেরার আশপাশের অংশে রঙের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ ফোনটি অ্যাপলের কাছে ফেরত পাঠিয়ে অর্থ ফেরতও চেয়েছেন।
আইফোন ১৮ প্রো-এর রঙের জন্য অ্যানোডাইজড অ্যালুমিনিয়ামে ডাইং প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ধাতুর হানিকম্ব কাঠামোর ভেতরে রঙের পিগমেন্ট প্রবেশ করে, যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কথা। তবে ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, কালো ও বেগুনি রঙের মডেলগুলোতে ইতোমধ্যে পেছনের ক্যামেরার আশপাশে রঙের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
রেডিটে এক ব্যবহারকারী নিজের ফোনের ছবি দিয়ে জানান, ক্যামেরার লেন্সগুলোর চারপাশের অংশ পাশের ক্যামেরা হাউজিংয়ের তুলনায় কিছুটা হালকা বা গোলাপি দেখাচ্ছে। ফোনে কোনও তেল, ময়লা বা অন্য কোনও অবশিষ্টাংশ নেই এবং জায়গাটি ভালোভাবে পরিষ্কার করার পরও সমস্যাটি থেকে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। ফোনে কোনও আঁচড়, দাগ বা শারীরিক ক্ষতির চিহ্নও নেই বলে জানান ওই ব্যবহারকারী।
ওই পোস্টের পর একই ধরনের সমস্যার কথা জানান আরও কয়েকজন আইফোন ব্যবহারকারী। একজন জানান, তিনি পরদিন অ্যাপলে গিয়ে ফোনটি পরিষ্কার কালো মডেল দিয়ে বদলে নেওয়ার চেষ্টা করবেন অথবা গ্লেসিয়ার মডেলে পরিবর্তন করবেন। আরেকজন জানান, তার ফোনও একই সমস্যায় আক্রান্ত এবং সেটি ইতোমধ্যে অ্যাপলের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্য একজন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীও একই সমস্যার কথা জানান।
তবে রুপালি ও হালকা নীল গ্লেসিয়ার মডেল ব্যবহারকারীরা এ ধরনের সমস্যার কথা জানাননি। অনেক অ্যাপল ব্যবহারকারীর ধারণা, ক্যামেরার লেন্সের চারপাশের রঙের পরিবর্তন আসলে ধুলা বা তেল জমার কারণে হতে পারে। তবে যাদের ফোনে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাদের দাবি, বারবার পরিষ্কার করেও এটি দূর হচ্ছে না।
এর আগে আইফোনের প্রো মডেলে রঙ পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছিল। গত বছর উজ্জ্বল ‘কসমিক অরেঞ্জ’ রঙের আইফোন ১৭ প্রো গোলাপি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন ব্যবহারকারীরা। ফোনের ফ্রেম পরিষ্কার করার রাসায়নিক বা হাতের অবশিষ্টাংশের সংস্পর্শে এলে অক্সিডেশনের কারণে ওই সমস্যা হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। রঙিন অ্যালুমিনিয়ামে সহজে আঁচড় পড়ে নিচের ধাতব অংশ দেখা যাওয়ার অভিযোগও উঠেছিল। তবে নতুন আইফোন ১৮ প্রো-এর ক্ষেত্রে এ ধরনের আঁচড়ের সমস্যা এখনও সামনে আসেনি।
বাইরের দিক থেকে আইফোন ১৮ প্রো আগের মডেলের মতো দেখতে হলেও ভেতরে ক্যামেরা, পারফরম্যান্স, ব্যাটারি ও এআই-সংক্রান্ত বেশ কিছু উন্নয়ন রয়েছে। নতুন মডেলে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে। পাশাপাশি ফটোগ্রাফিক স্টাইল ও ভিডিও সক্ষমতায় উন্নয়ন আনা হয়েছে।
আইফোন ১৮ প্রো-এর দাম ১ হাজার ১৯৯ পাউন্ড বা ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ১ হাজার ২৯৯ পাউন্ড বা ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। এগুলো অ্যাপলের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দামি নন-ফোল্ডিং স্মার্টফোন।
সূত্র: ডেইলি মেইল
নিজের পছন্দমতো গ্যাজেট বানাতে এআই, কোড উন্মুক্ত করলো মেটা