ফ্রান্সে চলমান সহিংসতা ও দাঙ্গার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অভিবাসননীতিকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইউরোপীয় এই নেতা যদি অভিবাসন বিষয়ে তার পরামর্শ শুনতেন, তবে এই বিশৃঙ্খলা এড়ানো যেত।
হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, প্যারিস খুব দ্রুতই একটি মুসলিম শহরে পরিণত হতে যাচ্ছে, যা এমনটা হওয়ার কথা ছিল না।
তিনি অভিযোগ করেন, অভিবাসীদের লাগামহীন প্রবেশের কারণে ফরাসি রাজধানীর জনমিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে।
ম্যাক্রোঁকে নিজের বন্ধু উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, আমি অনেক আগেই তাকে বলেছিলাম, আপনি ফ্রান্সে একটি বড় ভুল করছেন। আপনি বিশ্বের সব স্থান থেকে মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন। পুরো বিশ্বই যেন সেখানে চলে আসছিল। এবং আপনারা যেমনটা দেখছেন, প্যারিস খুব দ্রুতই একটি মুসলিম শহরে পরিণত হতে যাচ্ছে, যা কাম্য ছিল না।
সপ্তাহান্তে ব্যাপক দাঙ্গা, লুটপাট এবং বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের পর প্যারিস, লিল, নিসসহ বিভিন্ন শহরে স্থানীয়ভাবে সান্ধ্য আইন (কারফিউ) ও গণজমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়। এছাড়া দেশটির ট্রেড অ্যান্ড রিটেইল ফেডারেশন জানিয়েছে, সহিংসতায় প্রায় ৩ হাজার দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ণাঙ্গ সান্ধ্য আইনের পরিবর্তে এলাকাভিত্তিক বিধিনিষেধ জারি করেছে ফরাসি সরকার। আইনশৃঙ্খলা পুনর্দখলের বিষয়ে সংকল্প ব্যক্ত করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লোকোর্নু বলেন, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমার প্রতিশ্রুতি অটল। তবে প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি খোলা রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে সহিংসতার ঘটনায় ক্ষোভ ও লজ্জা প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনও কিছুই এটিকে সমর্থন করে না, কোনও কিছুই এটির ব্যাখ্যা দেয় না এবং কোনও কিছুই এটিকে ক্ষমা করে না।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের যুক্তিসঙ্গত দাবি রয়েছে উল্লেখ করলেও তিনি স্পষ্ট জানান, সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে সেসব দাবিকে মেলানো যাবে না। সরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অঘোষিত বৈঠক
মাঠজুড়ে এক হাজার নীরব মূর্তি, কী বার্তা দেয় তারা?