ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলে আছড়ে পড়েছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে এটি স্থলভাগ অতিক্রম করছে বলে জানা আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানা গেছে। এই সময়ে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল, যা দমকা হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করা হয়েছে।
‘অর্ণব’ নামটি প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও ধারাবাহিক পদ্ধতিতে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (এসকাপ) যৌথভাবে এই প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করে। দেশগুলোর দেওয়া প্রস্তাবিত তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে নাম নির্বাচন করা হয়, যা সর্বশেষ ২০২০ সালে হালনাগাদ করা হয়েছে। এই তালিকায় পুরুষ ও নারী- উভয় ধরনের নামই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যদিও বর্তমানে নারী-পুরুষ উভয়ের নামেই ঝড়ের নামকরণ হয়, তবে অতীতে একটি দীর্ঘ সময় ঘূর্ণিঝড়ের নাম কেবল নারীদের নামেই রাখা হতো। ১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষদ ঝড়ের নামকরণের প্রক্রিয়া শুরু করার পর টানা ২৬ বছর শুধু নারীদের নামেই ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখা হতো। পুরুষের নাম যুক্ত হতে শুরু করে ৪৭ বছর আগে।
তারও আগে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ঝড়ের নামকরণের কোনও আনুষ্ঠানিক নিয়ম ছিল না। সে সময় মার্কিন সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর আবহাওয়াবিদরা তাদের স্ত্রী বা প্রেমিকাদের নামানুসারে হারিকেন ও সাইক্লোনের নামকরণ করতেন।
১৮৮০-এর দশকে আবহাওয়াবিদ ক্লেমেন্ট র্যাগ ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের প্রক্রিয়াটি গুছিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। তবে নামকরণের ক্ষেত্রে তিনিও নারীদের প্রতি কিছুটা পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন। তিনি প্রথমে গ্রিক বর্ণমালা এবং পরে গ্রিক ও রোমান পৌরাণিক চরিত্রগুলোর নামে নামকরণ শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি নারীদের নাম এবং যেসব রাজনীতিবিদদের তিনি পছন্দ করতেন না, তাদের নামে ঝড়ের নামকরণ শুরু করেছিলেন।
কালের পরিক্রমায় ঝড়ের নামকরণের এই পদ্ধতিটি আরও পরিমার্জিত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে ছয়টি আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া কেন্দ্র (আরএসএমসি) এবং পাঁচটি আঞ্চলিক ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ওয়ার্নিং সেন্টার ঝড় ও আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে, নাম নির্ধারণ করে এবং সতর্কবার্তা জারি করে। এর মধ্যে ভারতের আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) অন্যতম।
উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৩টি দেশকে ঝড়ের নামকরণ করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। দেশগুলো হলো— বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন।
তবে ইচ্ছেমতো কোনও নাম বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। নামকরণের ক্ষেত্রে কঠোর নির্দেশনা অনুসরণ করতে হয়। নাম রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারবে না। একই সঙ্গে তা হতে হবে আপত্তিকর নয় এমন, সহজ এবং সর্বোচ্চ আট অক্ষরের।
সূত্র: উইয়ন নিউজ
ছয় ঘণ্টা তাণ্ডব চলানোর পর এবার যে প্রদেশে অগ্রসর হচ্ছে ‘অর্ণব’