কী, কেন, কীভাবে

নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের অস্ত্র সেই ‘ইসলামবিদ্বেষ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৫৪ আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৫৪

নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে নিজ সমর্থকদের একাট্টা করতে মুসলিম রাজনীতিক ও সম্প্রদায়কে ক্রমেই বেশি নিশানা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন বক্তব্য রিপাবলিকানদের কিছু ভোটারকে উজ্জীবিত করতে পারে। তবে এসব মন্তব্যকে যারা ভয় ছড়ানো ও বৈষম্যমূলক মনে করেন, তাদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ারও মুখে পড়তে পারেন তিনি।

সোমবার মিশিগানে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে এক সমাবেশে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে একাধিক কটাক্ষ করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প দাবি করেন, এল-সায়েদ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারেন। তিনি বলেন, ‘সিনেটে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ার আগে একমাত্র তাকেই মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে যেতে হবে’।

এল-সায়েদকে ‘জিহাদি’ বলেও আখ্যা দেন ট্রাম্প। পাশাপাশি, মিশিগানে শরিয়াহ আইন চালুর ইচ্ছা তার রয়েছে বলে ভিত্তিহীন দাবি করেন এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও পুনরায় তোলেন।

তবে এল-সায়েদ উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন। মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তার যোগসূত্রের কোনও প্রমাণও সামনে আসেনি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও তার নির্বাচনি প্রচারশিবির সাড়া দেয়নি।

ট্রাম্পের বক্তব্যে ভোটের সমীকরণ কতটা বদলাবে?

রাজনৈতিক পরামর্শক ডেনিস ডারনোই অ্যাক্সিওসকে বলেন, মিশিগানে ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য ভোটের হিসাব খুব একটা বদলাবে না। কারণ, রাজ্যটির ভোটাররা আগেও একই ধরনের বক্তব্য শুনেছেন।

তবে ডারনোইয়ের মতে, এ কৌশল ট্রাম্পের সমর্থকদের আরও সক্রিয় ও সংগঠিত করতে পারে। অন্যদিকে, এল-সায়েদের প্রাথমিক নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেন্সকে সমর্থন করা ইহুদি ও কৃষ্ণাঙ্গ ডেমোক্র্যাটদের কেউ কেউ নভেম্বরে এল-সায়েদকে সমর্থন করা থেকে সরে যেতে পারেন।

ডারনোই বলেন, ‘সব সময় জয়ী হওয়াই লক্ষ্য নয়। আপনি যদি পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে পারেন, এরপর আরও বেশি রিপাবলিকান-সমর্থিত এলাকায় গিয়ে ভোটারদের উপস্থিতি ও জয়ের ব্যবধান বাড়াতে পারেন, তাহলে রাজ্যজুড়ে খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে জিততেও পারেন’।

মুসলিম প্রার্থী নিয়ে ভোটারদের মনোভাব

সোমবার প্রকাশিত মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির এক জরিপে দেখা গেছে, রাজ্যটির সম্ভাব্য ভোটারদের প্রায় ৩৮ শতাংশ বলেছেন, কোনও প্রার্থী মুসলিম হলে তাকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

তবে ৫৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, প্রার্থীর মুসলিম পরিচয় তাদের সিদ্ধান্তে কোনও প্রভাব ফেলবে না। অন্যদিকে, ৫২ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের সমর্থন কোনও রাজনীতিককে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অনীহা বাড়াবে।

মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের নীতি ও কর্মসূচিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হারিস তারিন অ্যাক্সিওসকে বলেন, ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির কিছু নেতা নির্বাচনি কৌশল হিসেবে ‘বিদ্বেষ ও বর্ণবাদকে বেছে নিয়েছেন’, কারণ তাদের প্রচারের মতো অন্য কোনও বার্তা নেই।

তারিন বলেন, এল-সায়েদের নীতির সঙ্গে ভোটার বা রাজনীতিকদের একমত হওয়া না-হওয়া আলাদা বিষয়; সেসব নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু তারা নীতিগত বিষয় নিয়ে বিতর্ক না করে মানুষের মধ্যে ভয় ছড়ানো ও মিথ্যা প্রচারের পথ বেছে নিয়েছেন।

তারিনের পূর্বাভাস, এ ধরনের আক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিকদের পাশাপাশি সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যেও উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

এ বিষয়ে অ্যাক্সিওসকে ইমেইলে দেওয়া বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই উগ্রপন্থিদের চিহ্নিত করছেন, যারা বিভেদ উসকে দিচ্ছে, নিজেদের সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং সহিংসতা ছড়াচ্ছে’। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মহত্ত্ব রক্ষায় প্রেসিডেন্ট আপসহীনভাবে লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং আবদুলরহমান মোহাম্মদ এল-সায়েদের মতো উগ্রপন্থিদের বিরুদ্ধে কোনও ক্ষমা না চেয়েই কথা বলবেন।

মুসলিমবিরোধী বক্তব্যে শুধু ট্রাম্প নন

মুসলিমবিরোধী মন্তব্যের জন্য শুধু ট্রাম্প নন, চলতি বছর রিপাবলিকান পার্টির একাধিক আইনপ্রণেতাও সমালোচিত হয়েছেন। ট্রাম্প বারবার সোমালি-আমেরিকানদের এবং মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমরকে নিশানা করেছেন। এর আগে সোমালি অভিবাসীদের ‘আবর্জনা’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন তিনি। সোমালিদের অধিকাংশই ইসলাম ধর্মাবলম্বী।

এখন নজর থাকবে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যে মধ্যপন্থি ও স্বতন্ত্র ভোটাররা কতটা প্রভাবিত হন, নাকি মুসলিম-আমেরিকানসহ অন্য ভোটারদের মধ্যে এর উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। 

সূত্র: অ্যাক্সিওস

/এএস/ 
সম্পর্কিত
স্পেনে দুই বুলেট ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৬৪
ব্রিটিশ পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতা ও মাত্রাতিরিক্ত আইন প্রয়োগে তীব্র অসন্তোষ চীনের
মাইক্রোসফটের ছাঁটাই: ফের চর্চায় কর্মীদের ‘বিলাসবহুল’ অফিসজীবন
সর্বশেষ খবর
এবার প্রকাশ্যে রেস্টুরেন্টে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর
এবার প্রকাশ্যে রেস্টুরেন্টে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর
স্পেনে দুই বুলেট ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৬৪
স্পেনে দুই বুলেট ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৬৪
মজুরি বোর্ডের গেজেট কবে প্রকাশ করবে জানালেন মন্ত্রী
মজুরি বোর্ডের গেজেট কবে প্রকাশ করবে জানালেন মন্ত্রী
ঘুরতে গিয়ে শেষ এক পরিবার: বাবা-মা ও দুই মেয়েকে পাশাপাশি কবরে দাফন
ঘুরতে গিয়ে শেষ এক পরিবার: বাবা-মা ও দুই মেয়েকে পাশাপাশি কবরে দাফন
সর্বাধিক পঠিত
নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী
কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী
এখন কী করবেন নেতানিয়াহু
এখন কী করবেন নেতানিয়াহু
নেশার কারণে গান ছাড়িনি: আনুশেহ আনাদিল
নেশার কারণে গান ছাড়িনি: আনুশেহ আনাদিল
ইউরোপের ট্রেনের সঙ্গে বন্দে ভারতের তুলনা করে যা জানালেন পোল্যান্ডের পর্যটক
ইউরোপের ট্রেনের সঙ্গে বন্দে ভারতের তুলনা করে যা জানালেন পোল্যান্ডের পর্যটক