যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের উপকরণ তৈরি হয়, এমন একটি স্থাপনার অভ্যন্তরে সাউথ ক্যারোলাইনার একটি গবেষণাগারে আগুন লেগেছে। এ ঘটনায় জরুরি সাড়া কার্যক্রম শুরু হয়। তবে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে এবং স্থাপনার বাইরে কোনও দূষণের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থাপনা কর্মকর্তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের সাভানা রিভার সাইটে অবস্থিত সাভানা রিভার ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে এ ঘটনা ঘটে। স্থাপনার জরুরি সাড়া সংস্থা জানায়, বিকাল ৫টা ৩৯ মিনিটে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। এরপর সাময়িকভাবে স্থাপনার প্রবেশপথগুলোতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সতর্কতা হিসেবে এলাকার রেল, নদী ও আকাশপথের চলাচলও সীমিত করা হয়েছিল। রাত ৯টা ১৮ মিনিটের হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়, স্থাপনায় তখন আর কোনও পরিচালনাগত জরুরি অবস্থা বা নির্ধারিত বিলম্ব ছিল না এবং সব প্রবেশপথে যান চলাচল আবার শুরু হয়েছে। রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে স্থাপনার জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়। হালনাগাদ তথ্যে আরও জানানো হয়, শিফটে আসা সব কর্মী যথারীতি কাজে যোগ দিতে পেরেছেন।
স্থাপনার কর্মকর্তারা জরুরি সাড়া কার্যক্রমের নির্দেশনা দিয়েছেন এবং রাজ্য ও স্থানীয় সরকারি সংস্থাগুলোকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এর আগে বুধবার কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হলে তা জানতে স্থানীয় সংবাদের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেন। স্থাপনার প্রভাবিত অংশে কাজ করা যেসব কর্মী জরুরি সাড়া বা বন্ধ করার কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন না, তাদের সতর্কতা হিসেবে আশ্রয়ে রাখা হয়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানান।
১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য ট্রিটিয়াম ও প্লুটোনিয়াম উৎপাদনে কমপ্লেক্সটি গড়ে তোলা হয়। এখনও সেখানে ট্রিটিয়াম উৎপাদন হয়। পাশাপাশি ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি সামলানো এবং ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়াম মজুত রাখার কাজও হয়। যে ল্যাবরেটরি এলাকায় আগুন লেগেছে, সেখানে মূলত গবেষণা হয়; বড় পরিসরে পারমাণবিক উপকরণ উৎপাদন ও মজুত সেখানে হয় না।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পারমাণবিক ওয়ারহেডের গণউৎপাদন পুনরায় চালুর উদ্যোগের কেন্দ্রেও রয়েছে সাভানা রিভার সাইট। এনএনএসএ সম্প্রতি স্থাপনাটিকে প্লুটোনিয়াম পিট উৎপাদনের একটি বড় কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজ শুরুর অনুমতি দিয়েছে। আধুনিক পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্ফোরক কেন্দ্রই প্লুটোনিয়াম পিট। বাণিজ্যিক সাময়িকী এক্সচেঞ্জ মনিটরের তথ্যমতে, এ কেন্দ্রে ব্যয় হবে প্রায় ২৩৫ কোটি ডলার।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো