দিল্লির ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি করাকে কেন্দ্র করে ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং ক্ষমতাসীন বিজেপির মধ্যে চলমান বাকযুদ্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। উভয় পক্ষের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পর, রাহুল গান্ধী আবারও বিজেপিকে নিশানা করে দলটির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের আর্থিক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তুলেছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের বিশাল সমাবেশ ও পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও আপলোড করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষ যেন কিছু কিনতে না পারে, সে জন্য বিজেপি জোরপূর্বক সব দোকান বন্ধ করে দিয়েছে।
ভিডিওতে রাহুল গান্ধী বলেন, আমরা সবাইকে বলেছিলাম যখন আপনারা পদযাত্রা ও বিশাল সমাবেশের জন্য এখানে আসবেন, তখন কেনাকাটা করবেন। কিন্তু কনট প্লেসে এসে আমরা জানতে পারলাম যে বিজেপি জোরপূর্বক প্রতিটি দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কে করছে এবং কীভাবে করছে- তা আপনাদের জানা উচিত!
উৎসবের এই ভরা মৌসুমে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস দল ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করছে বলে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলার পরই নতুন করে এই বাকযুদ্ধ শুরু হয়।
ধানতেরাস, দেওয়ালি ও ছট পূজার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার ও দোকানদাররা তাদের বার্ষিক আয়ের একটি বড় অংশ উপার্জনের জন্য এই উৎসবের মৌসুমের ওপর নির্ভর করেন। রাহুল গান্ধী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মুখোমুখি হওয়া আর্থিক সংকট নিয়ে উদাসীন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিটিআই) এর আবেদনের কথা উল্লেখ করে নাড্ডা জানান, ব্যবসায়ীদের এই সংগঠনটি রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে উৎসবের মৌসুমে দিল্লিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজন না করার অনুরোধ জানিয়েছিল।
নাড্ডার দাবি অনুযায়ী, পূর্ববর্তী বিক্ষোভগুলোর কারণে দিল্লির ব্যবসায়ীদের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। আর সাম্প্রতিক এই সমাবেশের কারণে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হতে পারে।
তিনি বিশেষ করে চাঁদনি চক, সদর বাজার, খাড়ি বাওলি এবং করোল বাগের কথা উল্লেখ করে বলেন, মধ্য দিল্লির এই বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে বিপুল সংখ্যক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থাকেন, যারা এই রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
স্কুলে শিক্ষকদের জিনস-টি-শার্ট পরা নিষিদ্ধ, বন্ধ হচ্ছে ডিজে পার্টি