যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ জয়ী হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। নির্বাচনী ফলাফলের পূর্বাভাস দেওয়া প্রতিষ্ঠান ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ তার জয়ের ঘোষণা দিয়েছে।
নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন এল-সাইয়েদ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া রজার্সের বিরুদ্ধে তার এই জয়কে ডেমোক্র্যাটদের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মিশিগানে অল্প ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট গণনার প্রাথমিক ফলের ভিত্তিতে এল-সাইয়েদের জয়ের পূর্বাভাস দেয় ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ। বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য নিউ রিপাবলিক জানায়, ৭৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এল-সাইয়েদ পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, রজার্স পেয়েছেন তার চেয়ে কম ভোট।
৪২ বছর বয়সী এল-সাইয়েদ পেশায় চিকিৎসক। তিনি এর আগে ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে শ্রমিকদের অধিকার, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে রাজনীতিতে করপোরেট প্রভাব কমানোর পক্ষেও কথা বলেছেন।
অন্যদিকে, ৬৩ বছর বয়সী মাইক রজার্স সাত মেয়াদে কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। তিনি কংগ্রেসের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, উৎপাদন খাতের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
মিশিগানের এই আসনে আগে ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। সেই আসনেই এবার জয় পেলেন এল-সাইয়েদ।
এল-সাইয়েদের এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর মধ্য দিয়ে দেশটির সিনেটে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নির্বাচিত হলেন। মুসলিম আমেরিকানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও এটি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
সূত্র: রয়টার্স ও দ্য হিল