মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে চরম ভরাডুবির পরপরই হোয়াইট হাউসে বড় ধরনের রদবদল আনলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত এবং বিতর্কিত কট্টরপন্থি অভিবাসন নীতির স্থপতি স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের নতুন ‘চিফ অব স্টাফ’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্স।
মিলার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের। শুক্রবার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া ওয়াইলসকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অপারেশনের দায়িত্বে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী সোমবার থেকে মিলার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন ভোটাররা ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি প্রত্যাখ্যান করলেও হোয়াইট হাউস কোনও আপস বা নীতি পরিবর্তনের পথে হাঁটছে না। ট্রাম্প প্রশাসন যে ডেমোক্র্যাটদের সাথে মুখোমুখি রাজনৈতিক সংঘাত ও কঠোর অবস্থানের পথ বেছে নিচ্ছে, ৪১ বছর বয়সী মিলারের এই পদোন্নতি তারই স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটদের হবু স্পিকার হাকিম জেফরিস এই নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করে স্টিফেন মিলারকে একজন ‘বেপরোয়া চরমপন্থি’ বলে আখ্যা দেন। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া বলেন, ‘মিলারের বিতর্কিত অভিবাসন নীতি নিয়ে তদন্ত করা হবে এবং মিলারের এখন থেকেই আইনজীবী নিয়োগ করা উচিত।’
কে এই স্টিফেন মিলার?
ট্রাম্পের প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা মিলার যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক ৩,০০০ অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন।
মার্কিন আমলাতন্ত্রকে পুনর্গঠন এবং হাজার হাজার সরকারি কর্মকর্তা ছাঁটাইয়ের পেছনে তার মূল ভূমিকা ছিল। এছাড়া ইরানের ওপর হামলা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক পদক্ষেপের অন্যতম কট্টর সমর্থক ছিলেন তিনি।
ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস যখন ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একের পর এক তদন্ত ও বাজেট আটকে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বিশ্বস্ত ও আক্রমণাত্মক মনোভাবের স্টিফেন মিলারকে চিফ অব স্টাফ বানিয়ে ওয়াশিংটনে এক নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূচনা করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।