যে কারণে রিজার্ভ চুরির টাকা ফেরত পেতে দেরি

 

 

রিজার্ভের অর্থ চুরিবাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে দেড় কোটি ডলার এখনও পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোন পদ্ধতি বা কোন প্রক্রিয়ায় চুরির টাকা বাংলাদেশ গ্রহণ করবে, তা নির্ধারিত না হওয়ায় টাকা ছাড় করছে না ফিলিপাইন সরকার। যদিও ফিলিপাইনের রিজিওনাল ট্রায়াল কোর্ট প্রায় এক মাস আগে দেশটির কেন্দ্রীয় ব‌্যাংককে (Bangko Sentral ng Pilipinas)  বাংলাদেশের অনুকূলে দেড় কোটি ডলার অবমুক্ত করার আদেশ দিয়েছিলেন।  

ফিলিপাইনের আদালতের রায়ের পর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘দেড় কোটি ডলার বোধ হয় আমরা পেয়ে গেছি, অথবা আজ-কালের মধ্যেই পাচ্ছি।’

দেড় কোটি ডলার এখনও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে জমা না হওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফিলিপাইনের রিজিওনাল ট্রায়াল কোর্ট দেড় কোটি ডলার অবমুক্ত করার আদেশ দিলেও এই অর্থ কোন পদ্ধতিতে বাংলাদেশ গ্রহণ করবে, তা পরিষ্কার করে বলা ছিল না। এ কারণে কোন পদ্ধতি বা কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ চুরির ওই অর্থ গ্রহণ করবে, বিষয়টির সুরাহা করতে গত মাসের শেষের দিকে ফিলিপাইনের রিজিওনাল ট্রায়াল কোর্টে আবেদন করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে  ফিলিপাইনের ওই আদালত এ বিষয়ে রায় দিতে পারেন।’

জানা গেছে, গত মে মাসে ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির তদন্তের সময় এক ক্যাসিনো ব্যবসায়ী এই দেড় কোটি ডলার ফেরত দেন। তবে আট কোটি ১০ লাখ ডলারের বাকি অর্থ কোথায় গেছে, তার হদিস এখনও মেলেনি।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের কর্মকর্তারা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, চুরি যাওয়া পুরো অর্থ ফেরত পেতে দেরি হলেও দেড় কোটি ডলার আগামী সপ্তাহে পাওয়া যাবে।

জানা গেছে, ফিলিপাইনের আদালত রায়ের পরই  দেড় কোটি বা ১৫ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে যোগ হবে। প্রথমে এই অর্থ নগদে (ক্যাশ) বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর তা স্থানীয় কোনও একটি ব্যাংকের মাধ্যমে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে যোগ হবে।

এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের রিজিওনাল ট্রায়াল কোর্ট শুনানি শেষে বাজেয়াপ্ত ও ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত ৪. ৬৩ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ৪৮৮ দশমিক ২৮ মিলিয়ন পেসো (সব মিলিয়ে দেড় কোটি ডলার) বাংলাদেশের অনুকূলে অবমুক্ত করার আদেশ জারি করেন।

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই অর্থের অধিকাংশই চলে যায় জুয়ার আসরে। এই ঘটনার জন্য দায়ী করা হয় ফিলিপাইনের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংক (আরসিবিসি) কে। ওই সময় বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে পদত্যাগ করতে হয়। পরে ফিলিপাইন সরকারের তৎপরতায় দেড় কোটি ডলারের সন্ধান মেলার পর তা জব্দ করা হয়। ওই টাকা রাখা হয় ফিলিপাইনের বিচার বিভাগের তত্ত্বাবধানে।

আরও পড়ুন: চীনের এত ঋণ কিভাবে ব্যবহার করবে বাংলাদেশ?

/এমএনএইচ/