বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় প্রতিটি সরকারই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ এখনও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে অনেক পিছিয়ে।
এই বাস্তবতায় ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। বেসরকারি খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং করপোরেট বিশ্বের পরিচিত মুখ হওয়ায় তাকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বড় ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আশিক চৌধুরী বাংলাদেশের বিনিয়োগ খাতকে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক, আন্তর্জাতিক রোডশো, চীন-জাপান-যুক্তরাষ্ট্র-কাতার সফর, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সংস্কার, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন—সবকিছু মিলিয়ে তিনি বিনিয়োগ আকর্ষণের নতুন মুখ হয়ে ওঠেন। কিন্তু প্রায় দুই বছর পর প্রশ্ন উঠছে, এই প্রচেষ্টা কি বাস্তব ফল দিয়েছে? নাকি বিনিয়োগের বড় বড় ঘোষণার আড়ালে বিদেশি বিনিয়োগের প্রকৃত চিত্র এখনও হতাশাজনক?
অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, প্রচারণা যতটা জোরালো ছিল, বাস্তব অর্জন ততটা নয়। অন্যদিকে বিডার দাবি, তারা এমন একটি অর্থনীতি ও বিনিয়োগ কাঠামো উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে, যেখানে রাতারাতি পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। ফলে আশিক চৌধুরীর সাফল্য বা ব্যর্থতা মূল্যায়নের আগে পুরো প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সংখ্যার ভাষায় বাস্তবতা
বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূচক হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের এফডিআই তথ্য। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশে নিট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ১১৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নিট এফডিআই কমেছে প্রায় ২৯ কোটি ডলার বা ২০ দশমিক ২২ শতাংশ।
এর আগে অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেও বিদেশি বিনিয়োগ কমেছিল ২৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
এ তথ্য এমন সময়ে এসেছে, যখন বিডা একাধিক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজন করেছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশকে বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রশ্ন হলো, যদি বিনিয়োগ পরিবেশ এতটাই উন্নত হয়ে থাকে, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ কমছে কেন?
বিনিয়োগ সম্মেলনের সাফল্য কোথায়
২০২৫ সালে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিটকে বিডা একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরে। সরকারি প্রচারণায় বলা হয়েছিল, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে আগ্রহ দেখিয়েছেন। কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের কথাও বলা হয়। কিন্তু বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগ সম্মেলনে আগ্রহ প্রকাশ আর প্রকৃত বিনিয়োগ এক বিষয় নয়।
বাংলাদেশে বহু বছর ধরেই দেখা গেছে, সম্মেলনে ঘোষিত বিনিয়োগের বড় অংশ বাস্তবে আসে না। কারণ বিনিয়োগকারীরা সম্মেলনের বক্তব্যের ওপর নয়, বরং জ্বালানি, অবকাঠামো, নীতি স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন, করব্যবস্থা এবং ব্যবসার পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেন। এই জায়গাগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলে সম্মেলনের ইতিবাচক বার্তা বাস্তব বিনিয়োগে রূপ নেয় না।
বিডার নিবন্ধিত বিনিয়োগও কমেছে
শুধু এফডিআই নয়, বিডায় নিবন্ধিত বিনিয়োগ প্রস্তাবের তথ্যও উদ্বেগজনক। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিডার কাছে নিবন্ধিত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাবের পরিমাণ কমেছে প্রায় ৫৮ শতাংশ।
এক বছর আগে যেখানে ১ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়েছিল, সেখানে পরের বছর তা নেমে আসে মাত্র ৬৬ হাজার কোটি টাকায়। প্রকল্পের সংখ্যাও কমেছে।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিবন্ধন হলো প্রথম ধাপ। এখানেই যদি আগ্রহ কমে যায়, তাহলে পরবর্তী সময়ে বাস্তব বিনিয়োগ আরও কম হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
চীনের গল্প: প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ উৎস হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই চীনকে বিবেচনা করা হয়। আশিক চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর চীন সফর করেন। বাংলাদেশে উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং শিল্প খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ-চীন বিনিয়োগ সেমিনারেও বিপুল আগ্রহের কথা বলা হয়। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীন থেকে নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে প্রায় ৮৯ শতাংশ। আগের অর্থবছরে যেখানে চীনা বিনিয়োগ প্রস্তাব ছিল প্রায় ৫,৭৩০ কোটি টাকা, সেখানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৬২০ কোটি টাকায়। এটি শুধু বিনিয়োগ কমার গল্প নয়; এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে।
বিদেশ সফর হয়েছে, কিন্তু ফল কোথায়?
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে আশিক চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, কাতার, চীন, তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন। এসব সফরে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, সম্ভাব্য বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও এসেছে।
কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এসব দেশের অনেকগুলোর ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত বিনিয়োগ আসেনি। কাতার থেকে নতুন বড় বিনিয়োগ দেখা যায়নি। যুক্তরাজ্য থেকে নিট বিনিয়োগ কমেছে। কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যত বিনিয়োগ এসেছে, তার চেয়ে বেশি মুনাফা বিদেশে প্রত্যাবাসিত হয়েছে। এ অবস্থায় সমালোচকরা বলছেন, বিদেশ সফরের প্রচারণা যতটা ছিল, বিনিয়োগের বাস্তব ফল ততটা দৃশ্যমান নয়।
আশিকের যুক্তি কী?
অবশ্য আশিক চৌধুরী পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তার মতে, বিনিয়োগ কমার পেছনে বিডার ব্যর্থতার চেয়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং নির্বাচনকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষার মনোভাব বড় ভূমিকা রেখেছে।
বিনিয়োগের একটি বড় পাইপলাইন তৈরি হয়েছে, কিন্তু তা বাস্তবায়নে সময় লাগছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগের চেয়ে দেশীয় বিনিয়োগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু এখানেই নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদি বিদেশি বিনিয়োগ আনার জন্যই বিডার এত আয়োজন, তাহলে এখন কেন ফোকাস দেশীয় বিনিয়োগে চলে যাচ্ছে?
সবচেয়ে বড় বাধা: জ্বালানি সংকট
আশিক চৌধুরী নিজেই বারবার স্বীকার করেছেন যে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জ্বালানি সংকট। তার মতে, গ্যাসের ঘাটতি শিল্পায়নের সবচেয়ে বড় বাধা। দেশি ও বিদেশি উভয় বিনিয়োগকারীর কাছ থেকেই তিনি একই অভিযোগ শুনছেন।
বাংলাদেশের অনেক অর্থনৈতিক অঞ্চল এখনও পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে পারছে না। শিল্প উদ্যোক্তারা জমি পেলেও উৎপাদন শুরু করতে পারছেন না। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফিকিও বলছে, গ্যাস সমস্যা সমাধান ছাড়া নতুন বিনিয়োগ আশা করা কঠিন। অর্থাৎ বিনিয়োগ আনার দায়িত্ব বিডার হলেও সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি বিডার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
উচ্চ সুদহার ও ব্যাংকিং সংকট
বর্তমানে বিনিয়োগের আরেকটি বড় বাধা ব্যাংকিং খাত। শিল্পঋণের সুদহার ১৫ থেকে ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এই সুদে দীর্ঘমেয়াদি শিল্প প্রকল্প লাভজনক করা কঠিন। অন্যদিকে খেলাপি ঋণের হার ৩৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। ফলে ব্যাংকগুলো নতুন বিনিয়োগে ঋণ দিতে অনাগ্রহী।
বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। দেশীয় বিনিয়োগ যখন দুর্বল, তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সতর্ক হয়ে যান। কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত স্থানীয় অর্থনীতির প্রবণতা দেখে সিদ্ধান্ত নেন।
ব্যবসা সহজীকরণ: ঘোষণা বেশি, বাস্তবতা কম
আশিক চৌধুরীর অন্যতম বড় উদ্যোগ ছিল ব্যবসা সহজীকরণ। ৪৮ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধন, দ্রুত ভিসা প্রদান, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, অনলাইন অনুমোদন—এসব উদ্যোগকে বড় সংস্কার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, মাঠপর্যায়ে এখনও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখা যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের একাধিক দপ্তরে যেতে হচ্ছে। এনবিআর, পরিবেশ অধিদফতর, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয় দুর্বল। ফলে ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক রয়ে গেছে।
অর্থনীতিবিদদের মূল্যায়ন
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, অন্তর্বর্তী সময়ের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিনিয়োগ কমে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে তিনি বারবার বাস্তব পরিস্থিতি স্বীকার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তার মতে, অতিরিক্ত প্রচারণার পরিবর্তে বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
একই ধরনের মত দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারাও। তাদের মতে, নির্বাচনের পরও বিনিয়োগ রাতারাতি বাড়বে না। প্রথমে জ্বালানি, ব্যাংকিং খাত, করনীতি এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।
আশিক চৌধুরী কি তাহলে ব্যর্থ
এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া সহজ নয়। যদি সাফল্যের মাপকাঠি হয় বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, তাহলে এখন পর্যন্ত ফল আশাব্যঞ্জক নয়। এফডিআই কমেছে, বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে, বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি কমেছে। অনেক প্রত্যাশিত বিনিয়োগ বাস্তবায়ন হয়নি। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচকরা তাকে সফল বলতে রাজি নন।
কিন্তু অন্যদিকে এটিও সত্য যে তিনি এমন একটি অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশের দায়িত্ব পেয়েছেন, যেখানে জ্বালানি সংকট, ব্যাংকিং সংকট, উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা একসঙ্গে কাজ করছে। এসব সমস্যার কোনোটিই এককভাবে বিডার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়।
সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
বিএনপি সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য জিডিপির অনুপাতে মোট বিনিয়োগ ৪০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগও কয়েক গুণ বাড়াতে হবে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই লক্ষ্য অনেক দূরের বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ইতোমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন—দেশের ইতিহাসে যেখানে বিনিয়োগ কখনও ৩২ শতাংশ অতিক্রম করেনি, সেখানে ৪০ শতাংশে পৌঁছানো কতটা বাস্তবসম্মত?
এই বাস্তবতায় আশিক চৌধুরীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রচারণা নয়, বাস্তব ফল দেখানো। বিনিয়োগ সম্মেলন, বিদেশ সফর, রোডশো কিংবা নীতিগত ঘোষণা—এসবের সাফল্য শেষ পর্যন্ত পরিমাপ হবে একটি মাত্র সূচকে: বাংলাদেশে কত নতুন বিদেশি বিনিয়োগ এলো এবং কত নতুন শিল্প স্থাপিত হলো।
সেই বিচারে এখনো আশিক চৌধুরীর রিপোর্ট কার্ড পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। তবে তাকে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ বলার সময়ও সম্ভবত এখনও আসেনি। কারণ তার সাফল্য বা ব্যর্থতার প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তখনই, যখন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে কারখানা, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনে রূপ নেবে।