বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-কে দেশের ব্যবসায়ী সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকারী, কার্যকর ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের কাছে তাদের দাবি-দাওয়া কার্যকরভাবে উপস্থাপনে এফবিসিসিআইকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। প্রয়োজনে ইতিবাচক ও গঠনমূলক চাপ সৃষ্টি করে নীতিগত সহায়তা আদায়ে সংগঠনটিকে এগিয়ে আসতে হবে। তবে কোনোভাবেই এফবিসিসিআইকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি এফবিসিসিআই দেখতে চাই, যা প্রকৃত অর্থেই সব ব্যবসায়ীর সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।” সংগঠনটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়ক শক্তি হিসেবে নীতিনির্ধারণে বাস্তবভিত্তিক মতামত দেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সংগঠনটিকে গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে যোগ্য, দূরদর্শী ও উদ্যমী নেতৃত্ব প্রয়োজন। এফবিসিসিআই-এর নেতৃত্ব অবশ্যই ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকেই আসতে হবে—এবং সংগঠনটি যেন ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।
ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন আমদানি নীতি (ইমপোর্ট পলিসি) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই তা প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি বস্ত্র ও পাট, শিল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা সহজীকরণে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হবে।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) ও এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বক্তব্য দেন।
এছাড়া বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক, এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতা বৈঠকে অংশ নেন। তারা এফবিসিসিআইকে আরও কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে একজন প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাবও তুলে ধরেন।