‘বিশ্বে সিরামিকের বড় বাজার আছে, আমাদের সেটা ধরতে হবে’

বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য উন্নতমানের। বিশ্ববাজারে এ পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে। এর রফতানি বাড়াতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতাও দেবে। এমনটা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

শনিবার (২ এপ্রিল) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পরিপ্রেক্ষিতে সিরামিক শিল্প: সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডি’র রিসার্চ ডিরেক্টর ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক সংসদ সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড টেরিফ কমিশনের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন, ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির নির্বাহী চেয়ারম্যান দুলাল কৃষ্ণ সাহা, এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট জসিম উদ্দিন, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান, আইসিএমএবি’র প্রেসিডেন্ট মামুনুর রশিদ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রফতানির ৮২ ভাগের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তবে রফতানির একটি খাতের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই পণ্যের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।’

‘সরকার সিরামিক, পাট, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, আইসিটি, মেডিক্যাল, প্লাস্টিক এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রফতানিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ বছর লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যকে প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে সিরামিক পণ্য সম্ভাবনাময়। দেশে প্রায় ৭০টি প্রতিষ্ঠান এটি তৈরি করছে। তাদের রফতানিও বেড়েছে। বিশ্বে এ পণ্যের বড় বাজার রয়েছে। আমাদের সেটা ধরতে হবে।’

টিপু মুনশী আরও জানান, বাংলাদেশ এলডিসি গ্রাজুয়েশন করবে ২০২৬ সালে। ২০২৯ সাল পর্যন্ত এলডিসিভুক্ত দেশের বাণিজ্য সুবিধা পাবে। এরপর উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বিশ্ববাণিজ্য করতে হবে। তখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ ও পিটিএ’র মতো চুক্তি করে বাণিজ্যে এগিয়ে যেতে হবে।

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ধরনের চুক্তির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সাময়িকভাবে কিছু ক্ষতি হলেও দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হবো। এ জন্য এখন থেকে আমাদের তৈরি হতে হবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। চুক্তি সইয়ের জন্য নেগোসিয়েশনের দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।’