আমদানিনির্ভর পণ্য সয়াবিন তেল, পাম তেল ও চিনির মূল্য সব সময় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন,‘আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কমলে দেশীয় বাজারে পণ্যের মূল্য কমে না, বিষয়টি সত্য নয়।’
সোমবার (১২ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতনার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়লে বাংলাদেশের বাজারেও প্রভাব পড়ে বলে জানিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কমলে দেশীয় বাজারে পণ্যের মূল্য কমে না, বিষয়টি সত্য নয়।’
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশীয় বাজারে পণ্যের মূল্য সময়ে সময়ে সমন্বয় করা হয়ে থাকে। তবে মূল্যবৃদ্ধির সময় যত দ্রুত প্রতিফলিত হয়, কমার ক্ষেত্রে তত দ্রুত প্রতিফলিত হয় না। আমদানি, উৎপাদন, পরিবেশক ও খুচরা পর্যায় পর্যন্ত মূল্য যথাযথ সমন্বয় করতে সময়ের প্রয়োজন হয়।’
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে পান রফতানি চালু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাঁচা পান রফতানি করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। পান রফতানির ক্ষেত্রে ইতোপূর্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উত্থাপিত অভিযোগ পাওয়ার পর স্যালমোনিলারমুক্ত পান সংগ্রহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পানে স্যালমোনিলার (এক ধরনের ক্ষতিকর ভাইরাস) সমস্যা সমাধানের পর তা রফতানির জন্য যেসব বাধা ছিল, তা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। সম্প্রতি ইংল্যান্ডে পান রফতানি শুরু হয়েছে।’
পেঁয়াজের চাহিদা ২৫ থেকে ২৭ লাখ মেট্রিক টন এবং বর্তমানে পেঁয়াজের কোনও ঘাটতি নেই বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশে চিনি ও পেঁয়াজের বর্তমান বার্ষিক চাহিদা যথাক্রমে ২০-২২ লাখ মেট্রিক টন ও ২৫-২৭ লাখ মেট্রিক টন। চিনি ও পেঁয়াজের উৎপাদন প্রায় ২১ হাজার মেট্রিক টন ও ২৮ দশমিক ১১ লাখ মেট্রিক টন (প্রকৃত উৎপাদন প্রায় ৩৭-৪৯ লাখ মেট্রিক টন)। এরমধ্যে প্রক্রিয়াজাত ক্ষতি বাদ দিয়ে অবশিষ্ট থাকে ২৮ দশমিক ১১ লাখ মেট্রিক টন।’
টিপু মুনশি বলেন, ‘চিনির দেশীয় উৎপাদন অতি নগণ্য হওয়ায় প্রায় ৯৯ শতাংশ চিনির চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়ে থাকে। দেশে বর্তমানে পেঁয়াজের কোনও ঘাটতি নেই। তবে আমদানি উন্মুক্ত না থাকলে স্থানীয়ভাবে সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় মূল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়ে থাকে। আমদানি উন্মুক্ত থাকলে ২০ শতাংশ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়ে থাকে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে (জুলাই ২০২২ থেকে ২৭ মে ২০২৩ পর্যন্ত) চিনি আমদানির এলসি ওপেনের পরিমাণ ১৬ দশমিক ৬৭ লাখ মেট্রিক টন এবং পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ ৫ দশমিক ৬৩ লাখ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির মূল্য গত তিন মাসে প্রতি মেট্রিক টনে প্রায় ১৬০ ডলার বেড়েছে। এছাড়া আমদানি ব্যয় নির্ধারণে ব্যবহৃত বৈদেশিক মুদ্রা ডলারের মূল্য গত এক বছরে প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। অপরিশোধিত চিনি পরিশোধনে ব্যবহৃত কেমিক্যালের মূল্যও বেড়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বাড়ার কারণেও স্থানীয় বাজারে চিনির মূল্য বেড়েছে।’