ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের অপসারণসহ ৭ দাবি, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক ও উদ্বেগের মধ্যে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান অপসারণসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। সংগঠনটি জানিয়েছে, শনিবার (১৩ জুন) বিকাল চারটার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে রবিবার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। পাশাপাশি মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নুর উন-নবী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমকে অপসারণ করে ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞ, সৎ ও পেশাদার ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।’’ একইসঙ্গে ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে যেকোনও বিতর্কিত উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে নুর উন-নবী বলেন, ‘‘সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা হওয়ায় সেখানে উপস্থাপিত তথ্যের বিষয়ে জনগণের আস্থা থাকে। ফলে এ বিষয়ে কোনও তথ্যগত অসামঞ্জস্য থাকলে তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।’’

লিখিত বক্তব্যে সচেতন গ্রাহক ফোরাম সাতটি দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে দক্ষ ও পেশাদার ব্যক্তিকে নিয়োগ, ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করা, ব্যাংক খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা, ব্যাংক খাতে অনিয়মে জড়িতদের পুনরায় প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক বিষয়ে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার।

সংগঠনটির দাবি, ইসলামী ব্যাংক ও অন্যান্য ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা এবং অপপ্রচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অনেক আমানতকারী আতঙ্কিত হয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করছেন। তাদের মতে, এ পরিস্থিতি দ্রুত নিরসনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পাঁচ পরিচালকই বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র পরিচালক। গত ২৪ মে ঈদুল আজহার আগে শেষ কর্মদিবসে ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ব্যাংকটিকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা ও আন্দোলন শুরু হয়।

২০১৭ সালে শেয়ারবাজার থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শেয়ার কিনে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটি এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয় এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ইসলামী ব্যাংকের মোট ঋণের প্রায় ৫০ শতাংশ বর্তমানে খেলাপি হয়ে পড়েছে, যার বড় অংশ এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিতরণ করা হয়েছিল। এ পরিস্থিতি ব্যাংকটির আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।