ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে সাম্প্রতিক অস্থিরতা, ব্যাপক আমানত উত্তোলন এবং তারল্য সংকটের মধ্যে ব্যাংকটির নতুন প্রশাসক মোহাম্মদ জহির হোসেন গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ব্যাংকের আমানত ও লেনদেন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। তিনি বলেছেন, ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না, ব্যাংকের সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে।
এর আগে রবিবার (১৪ জুন) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিনেই তিনি গ্রাহকদের উদ্দেশে আস্থার বার্তা দেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, “গ্রাহকদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। তারা স্বাভাবিকভাবে টাকা জমা ও উত্তোলনসহ সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাম্প্রতিক সময়ে চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক এবং বিক্ষোভের জেরে ইসলামী ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ আমানত উত্তোলন হয়। এর ফলে ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতির ওপর চাপ তৈরি হয় এবং গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন প্রশাসকের প্রথম বার্তাকেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন প্রশাসক বলেন, ‘‘ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক এবং কোটি গ্রাহকের আস্থার প্রতীক। সেই আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।’’
তিনি আরও জানান, ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কোনও ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহে ইসলামী ব্যাংক থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার আমানত উত্তোলন হয়েছে— যা ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতিকে চাপে ফেলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জরুরি সহায়তা হিসেবে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সরবরাহ করেছে।
ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে নতুন প্রশাসকের পক্ষ থেকে সরাসরি গ্রাহকদের উদ্দেশে দেওয়া আশ্বাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এতে আমানতকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে এবং ব্যাংকটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কমবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের সামনে এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে নতুন প্রশাসকের নেতৃত্বে ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা, তারল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। নতুন প্রশাসকের প্রথম দিনের বার্তায় সেই প্রত্যয়েরই প্রতিফলন ঘটেছে।