বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রচার সম্পাদক ডা. সফিকুল ইসলাম ডিমের মূল্য বৃদ্ধির কারণ উল্লেখ করে বলেছেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে ডিমের উৎপাদন হ্রাস পায়, ফলে বাজারে ডিমের দাম বেড়ে যায়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ডিমের দাম কমে আসবে বলে তিনি জানান।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন, পাইকারি ও খুচরা পোল্ট্রি ব্যবসায়ী, ডিম ব্যবসায়ী, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও বিভিন্ন দফতর সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি একথা জানান। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. জহিরুল ইসলাম।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সেবাস্টিন রেমা, পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণাগার) আতিয়া সুলতানা, পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) মো. মাসুম আরেফিনসহ অধিদফতরের কর্মকর্তারা, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের প্রতিনিধি, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ-এর প্রতিনিধি, কৃষি বিপণন অধিদফতরের প্রতিনিধি, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদফতরের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের প্রতিনিধি, এফবিসিসিআই এর প্রতিনিধি, বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিবৃন্দ, কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর প্রতিনিধি, রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা পোল্ট্রি ও ডিম ব্যবসায়ীবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
ডা. সফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সময়ে উৎপাদন খরচের তুলনায় ডিমের বাজারমূল্য কমে যাওয়ায় খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ডিমের উৎপাদন কমে যায়, ফলে বাজারে এর প্রভাব পড়ে। ডিমের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা গেলে খামারিরা উৎপাদনে উৎসাহিত হবেন এবং সারা বছর ডিমের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক খামারগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে গেলে ভবিষ্যতে দেশের চাহিদা পূরণে ডিম ও মুরগি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অধিদফতরের পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণাগার) আতিয়া সুলতানা স্বাগত বক্তব্যে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের, বিশেষ করে ডিম ও পোল্ট্রি পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও মূল্য স্থিতিশীল রাখা সংশ্লিষ্ট সবার যৌথ দায়িত্ব। তিনি বলেন, উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে একটি টেকসই ও কার্যকর সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে আজকের এ সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক নয়ন কুমার সাহা ও সহকারী পরিচালক রোজিনা সুলতানা মাঠ পর্যায়ে বাজার তদারকির সময় প্রাপ্ত বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, বাজার তদারকির সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে হালনাগাদ মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, ওজনে কারচুপি, পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে রশিদ প্রদান না করা এবং বেকারিতে ভাঙা ডিম বিক্রয় না করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে।
উপপরিচালক নয়ন কুমার সাহা খামার পর্যায়ে অ্যান্টিবায়োটিকের অযাচিত ব্যবহার পরিহার করে নিরাপদ ও মানসম্মত পোল্ট্রি ও ডিম উৎপাদনের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
মুক্ত আলোচনায় বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের এক্সিকিউটিভ মেম্বার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ডিমের উৎপাদন খরচ প্রতি পিস প্রায় ১১ টাকা। উৎপাদন ব্যয়, ফিডসহ অন্যান্য উপকরণের মূল্য এবং খামারিদের আনুষঙ্গিক ব্যয় বিবেচনায় বর্তমান বাজারমূল্য যৌক্তিক কি না, তা সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে একটি যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ ফিড ইন্ড্রাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক বলেন, দেশের পোল্ট্রি শিল্পে ব্যবহৃত ফিডের প্রায় ৭০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার ও আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি ফিডের মূল্যে পড়ছে। তিনি জানান, গত এক মাসে ফিডের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বর মাসে বর্ধিত মূল্যের ফিড বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যার প্রভাব ভবিষ্যতে পোল্ট্রি ও ডিমের উৎপাদন ব্যয় এবং পণ্যের বাজারমূল্যে ওপর পড়তে পারে বলে তিনি জানান।
মুক্ত আলোচনায় কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারমূল্যের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখার পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থও সমানভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি পোল্ট্রি মুরগি ও ডিমের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পোল্ট্রি উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, নিম্নমানের ফিড এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাজারে তুলনামূলক বেশি দামে অর্গানিক ডিম পাওয়া গেলেও সাধারণ বাজারে প্রচলিত দামে বিক্রি হওয়া ডিম ও মুরগির মান সম্পর্কে ভোক্তাদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ মাননিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কাজী ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান মাহমুদ বলেন, ডিমের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে চাহিদা ও সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বাজারে পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তিনি ডিমের বাজারে সিন্ডিকেশনের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ডিমের বাজারে সিন্ডিকেশনের ধারণাটি সঠিক নয়। দেশে ডিমের উৎপাদন ব্যবস্থা বিভিন্ন পর্যায়ের ও বহুমুখী হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সীমিত।
প্যারাগন গ্রুপের প্রতিনিধি তানবির রাহাত বলেন, দেশে মুরগি ও ডিমের বাজারমূল্য নির্ধারণে প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে বাজারে কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর এককভাবে মূল্য নিয়ন্ত্রণ বা সিন্ডিকেট করার সুযোগ রয়েছে—এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন। বক্তাদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্যারাগন ও সাধারণ ডিমের মধ্যে মূল্যের পার্থক্যের অন্যতম কারণ হলো মুরগির ফিডের উপাদানের ভিন্নতা। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ফিশ অয়েল ফিডের সঙ্গে মিশ্রণ করা হয় বলে জানান।
কৃষি বিপণন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সুলতানা নাসিরা বলেন, ২০২৪ সালে ডিমের জন্য যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, বর্তমান উৎপাদন ব্যয় ও বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে তা পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে ফিডসহ উৎপাদন উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিমের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। তিনি বলেন, ডিমের উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সিজন ও অফ সিজন সময়ের উৎপাদন ব্যয়ের পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বাজার পরিস্থিতি, উৎপাদন ব্যয়, ফিড ও অন্যান্য উপকরণের মূল্য এবং চাহিদা-সরবরাহের বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করে কৃষি বিপণন অধিদফতরের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ ও পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ-এর পরিচালক মল্লিকা দে বলেন, সাধারণভাবে ডিমকে অনিরাপদ খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। ডিমের নিরাপত্তা ও মান নিয়ে ভোক্তাদের কোনও অভিযোগ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গুণগত মান ও নিরাপত্তার বিষয়টি যাচাই করা হবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের প্রতিনিধি বলেন, বাজারে প্রতিযোগিতাবিরোধী কার্যক্রমের বিষয়ে কমিশনের একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। আদালতে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এফবিসিসিআই’র যুগ্ম মহাসচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন খান তার বক্তব্যে প্রান্তিক খামারিদের সংশ্লিষ্ট সমিতির বাধ্যতামূলক সদস্য করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
অধিদফতরের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) মো. মাসুম আরেফিন বলেন, আজকের মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ডিম ও পোল্ট্রি খাতের উৎপাদন, সরবরাহ, মূল্য নির্ধারণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানার সুযোগ হয়েছে। তিনি বলেন, দোকান বা বিক্রয়কেন্দ্রে যেখানে মুরগি জবাই ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়, সেখানে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ব্যবসায়ীদের অবদানের কথা স্বীকার করে বলেন, দেশের মানুষের চাহিদা পূরণে উৎপাদক, খামারি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই কোনও পক্ষকে এককভাবে দায়ী না করে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
সভায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক ও প্রধান অতিথি জনাব মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বাজারে ডিম ও পোল্ট্রি পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই আজকের মতবিনিময় সভার মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, দিনশেষে আমরা সবাই কোনও না কোনোভাবে ভোক্তা। তাই নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
মহাপরিচালক বলেন, জরিমানা আরোপ করা অধিদফতরের মূল উদ্দেশ্য নয়; ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করাই অধিদফতরের প্রধান লক্ষ্য। অসাধু ব্যবসায়ীদের অনিয়ম প্রতিরোধ এবং ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণের প্রয়োজনেই আইন প্রয়োগ করা হয়। উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে ক্রয়-বিক্রয়ের যথাযথ রশিদ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। উৎপাদন পর্যায়ে রশিদ না পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
তিনি বলেন, ডিম ও পোল্ট্রি পণ্যের ক্ষেত্রে সাপ্লাই চেইন ও ভ্যালু চেইনের প্রতিটি স্তর বিশ্লেষণ করে উৎপাদন, সরবরাহ ও চাহিদার প্রকৃত চিত্র নিরূপণ করা প্রয়োজন। বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে পণ্যের মূল্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। তাই উৎপাদন ও চাহিদার সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে বাজার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বাজারে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ফিডের মান নিয়েও ভোক্তাদের মধ্যে যাতে কোনও ধরনের সন্দেহ বা অস্পষ্টতা না থাকে, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বাজার থেকে ফিডের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। খাদ্য ও পোল্ট্রি পণ্যের মান নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ বা আস্থার সংকট তৈরি হলে ভবিষ্যতে পুষ্টি নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মহাপরিচালক বলেন, প্রান্তিক খামারিদের টিকিয়ে রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। দেশের পোল্ট্রি খাতের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা একটি সার্কুলার ইকোনমির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সরবরাহ ব্যবস্থার কোনও একটি স্তরে সমস্যা তৈরি হলে এর প্রভাব পুরো বাজার ব্যবস্থায় পড়তে পারে এবং পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই উৎপাদন থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি ডিমের মূল্য যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, সমন্বয় ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে ডিম ও পোল্ট্রি পণ্যের বাজারে স্বচ্ছতা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে সভাপতি সেবাস্টিন রেমা বলেন, বর্তমানে ডিম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে এবং অনেক পরিবার নিয়মিত ডিম খাদ্যতালিকায় রাখছে। তাই ডিমের মূল্য ও মান নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে যে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা বা সংশয় দূর করতে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আজকের সভায় ডিম ও পোল্ট্রি পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ, মূল্য নির্ধারণ, মান ও নিরাপত্তা এবং বাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও মতামত উঠে এসেছে, সেগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবার পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।