ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানো এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে ১৮ মাসের একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার, ঋণ পরিশোধে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর এবং ব্যাংক খাতের সংস্কারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিগগিরই এ পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি ঘোষণার অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান।
তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে ‘বুলেট পেমেন্ট’ ও ‘ওয়ান-টাইম এক্সিট’-এর মতো নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়নে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও আগামী ১৮ মাসের মধ্যে ব্যাংক খাতে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ডেপুটি গভর্নর বলেন, শুধু খেলাপি ঋণ কমানো নয়, ব্যাংক খাতে সামগ্রিক শৃঙ্খলা ফেরানো এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করাও এ পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাত সচল রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানান ড. হাবিবুর রহমান।
তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে নীতিগত সুদহার কমানোর প্রবণতা দেখা গেলেও বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমান ৮ দশমিক ৫ শতাংশ পলিসি রেট এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু ঋণ ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনলেই হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং বাজারে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
উৎপাদন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে ভারসাম্য আনতে এসব বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ডেপুটি গভর্নর।