রাজধানীর মেরাদিয়া বাজার। বনশ্রী, আফতাবনগরসহ আশপাশের এলাকার অন্যতম বড় বাজার। মাছ, মাংস, সবজিসহ নানা নিত্যপণ্যের প্রতিদিনের বাজার। আর বুধবার বসে হাট। হাট মানে একেবারে গ্রামীণ পরিবেশ। গ্রামের হাটে যে ধরনের পণ্য বিক্রি হয় এখানেও আসে সেই রকম পণ্য। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ পণ্য বিক্রি করতে আসে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চাকুরিজীবীদের জন্য সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দেখা যায় ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান খোলা শুরু করেছেন। আবার কেউ কেউ রাজধানীর পাইকারী বাজার হিসেবে পরিচিত কাওরানবাজার থেকে নানা পণ্য কেবল নিয়ে আসছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, সবজির বাজার আগের চেয়ে একটু কম। তবে আগামীকাল শুক্রবার বেড়ে যাবে। শুক্রবার মানেই দাম একটু বেশি। ওইদিন পাইকারী বাজারে দাম বেড়ে যায়।
সবজি বিক্রেতা সুমন জানালেন, কদিন আগেও বেগুন ২৫০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হয়েছে এখন ২২০ টাকা। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের চেয়ে বৃহস্পতিবার একটু দাম কম থাকে। কিন্তু শুক্রবার আবার বেড়ে যায়।
সুমনের দোকানে যে সবজি রয়েছে সেগুলোর মধ্যে আলু প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, সিম ২২০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, পেপে ৩৫-৪০টাকা, ভেন্ডি ৮০ টাকা এবং কাঁচা মরিজ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সুমন জানালেন, আজকে অনেক সবজির-ই দাম আগের চেয়ে একটু কম। আর শীতের সবজির মৌসুমও কাছাকাছি চলে আসায় দাম কমের দিকে। তবে আগামীকাল শুক্রবার এই সবজির প্রতিকেজি ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়বে।
তিনি বলেন, ‘শুক্রবার আসলেই আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়। এ কারেণ দামও বেড়ে যায়। কারণ ওই দিন ছুটি থাকে। লোকজন বাজারে আসে। চাহিদা বেশি থাকে। এ কারণে পাইকারী থেকে খুচরা দামও বেড়ে যায়।’
এতো গেল সবজির বাজার। এবার চলুন মুরগির বাজারে। মুরগি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মুরগির দাম বাড়তির দিকে। প্রতিদিন বাড়ছে মুরগির দাম। আজ বৃহস্পতিবার কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা প্রতি কেজি দরে। এছাড়াও ব্রয়লার মুরগি ২৯০ টাকায়।
ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন বাড়ছে মুরগির দাম। আজ ৩৩০ তো কাল ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে হবে। পরিবহন খরচ বাড়ছে এ কারণে বাড়ছে মুরগির দাম। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সরবরাহও কম।’
তিনি বলেন, ‘আগামী ১০ তারিখ পর্যন্ত বাড়তেই থাকবে। তারপর হয়তো কমতে পারে। পাইকারী বিক্রেতারা এমন আভাস দিয়েছেন।’
মাছের বাজারে দেখা যায়, তাজ রুই সাইজভেদে প্রতি কেজি ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি, তেলাপেয়া ২৩০, পাঙ্গাস ২৫০-২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছোট বড় নানা প্রকারের মাছ প্রতি কেজি ২৫০ টাকা থেকে শুরু হয়ে নানা দামে বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংস প্রতিকেজি ৮২০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সকালে বাজার করতে আসা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাজার তো উর্ধ্বমুখী। মাছের বাজার চড়া। তাজা রুই ২৮০-৩৩০ এর মধ্যে ছিল প্রতিকেজি। এখন ৪০০ ছাড়িয়ে গেলো। অন্যান্য মাছের দামও চড়া। আর সবজির দাম আরও কমা উচিৎ। কিন্তু বাড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘শুক্রবার ছুটি থাকায় অনেক ক্রেতা আসে। এ কারণে দাম বাড়ে। আমি সাধারণত বৃহস্পতিবারই কিনে ফেলি। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য এখন আর কারও নেই। সবাই অল্প অল্প করেই কিনছেন।’
গৃহিনী আফরোজা বেগম বলেন, ‘মেয়েকে স্কুলে দিয়ে বাজারে আসলাম। বাজারের যা অবস্থা আমরা আগে যেখানে বেশি কিনতাম, এখন একটু কমই কিনতে হয়।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই বাজারে লাউ ৫০-৬০ টাকাও ছিল গতসপ্তাহে। এখন ৮০ টাকার নিচে লাউ নেই। এছাড়া অন্যান্য সবজি ১০ থেকে ২০ পর্যন্ত বাড়তি।’
তিনি বলেন, ‘এই বাজারে কিছুটা কম দরে পাওয়া গেলেও তা খুবই সামান্য। দিন যতই যাচ্ছে দাম বাড়ছে। আর শুক্রবার তো ইচ্ছেমত দাম হাঁকান।’