‘চাইলেও কম দামে কিছু বিক্রি করতে পারি না’, নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বস্তি

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এখন বেশ চড়া। সবজি, ডিম ও মুরগিসহ প্রায় সব জিনিসই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। ৮০ টাকার নিচে সবজি মেলা কষ্টসাধ্য। ফলে কেনাকাটা করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ও সীমিত আয়ের মানুষ। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। 

আজকের বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ১২০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিছ ৭০ টাকা, লতি ৮০ টাকা, পটল, চিচিঙ্গা, ঝিঙে ৮০ টাকা, শিম ২০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, লম্বা  বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৩০ টাকা কেজি। 

বাজারে কাঁচা মরিচ ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সবচেয়ে কাম দামের পণ্য পেঁপে ৩০ টাকা কেজি করে বিক্রি হচ্ছে এবং সর্বোচ্চ ২০০ টাকা কেজি করে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। 

সবজি বিক্রেতা সন্তু মজুমদার বলেন, ‘পরিবহন, জ্বালানি তেলসহ সব কিছুর খরচ বেশি। এর প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। আমরা চাইলেও কম দামে কিছু বিক্রি করতে পারি না। আমরাও চাই সবজির দামসহ সব পণ্যের দাম কমে যাক।’  

বাজার করতে আসা রফিক শেখ বলেন, ‘সারাদিন যা আয় করি তাই দিয়ে বাজার করতে গেলেই সব শেষ হয়ে যায়। বাকি আরও কত কিছু কিনতে হয়। সব মিলিয়ে পারছি না আর, মাঝমধ্যে না খেয়ে থাকতে ইচ্ছে করে, কিন্তু না খেয়েও থাকতে পারি না।’ 

মুরগির বাজার

মুরগির ডিমেও চাপ 

আজকে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, কক মুরগি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১২৫০ টাকা কেজি। 

প্রতি ডজন মুরগির লাল ডিম ১৬০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামে বেড়েছে ডজনে ১০ টাকা। প্রতি হালি নিলে গুনতে হচ্ছে ৫৫ টাকা। 

মাছের বাজার

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই 

এদিকে মাছের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। রুই মাছ আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পাবদা ৬০০ টাকা, কই ৩৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি আকারভেদে প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা হাবিব হাসান বলেন, ‘মাছের দাম আগের মতোই আছে। দাম সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। এখন এক দাম, বিকালে আরেক দাম। আবার মাছ বেশি আসলেও দাম কমে যায়। আবার ক্রেতা বেশি আসলেও দাম বেড়ে যায়।’