আদানির চুক্তি বাতিলে সালিশি আদালতে যাওয়ার পরামর্শ জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পর্যালোচনা কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। এই চুক্তি বাতিলে সিঙ্গাপুরের সালিশি আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তির সঙ্গে জড়িত সাত-আট জন ব্যক্তির অবৈধ সুবিধা নেওয়ার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয় কমিটি। তবে এ বিষয়ে কোনও যোগাযোগ বা প্রতিবেদন হাতে না পাওয়ার কথা জানিয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে আদানি পাওয়ার।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ ভবনে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ এর অধীনে সম্পাদিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনার জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান জানান, আদানির চুক্তিতে যে ধরনের দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে, আন্তর্জাতিক মানের মামলায় এমন শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া বিরল। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, চুক্তির বিনিময়ে কয়েক মিলিয়ন ডলারের অবৈধ লেনদেন হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ট্রাভেল ডকুমেন্টসহ প্রামাণ্য তথ্য দুদককে দেওয়া হয়েছে। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত হিসাবে লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের অন্যান্য উৎস থেকে কেনা বিদ্যুতের তুলনায় আদানির বিদ্যুতে প্রতি ইউনিটে ৪-৫ সেন্ট বেশি দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সাল নাগাদ এই দাম ১৪ দশমিক ৮৭ সেন্টে দাঁড়াবে। এর ফলে চুক্তির ২৫ বছরে প্রতি বছর বাংলাদেশকে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া, চুক্তির এমন কিছু শর্ত রয়েছে যেখানে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে আদানির ক্ষতি হলেও তার দায়ভার বাংলাদেশকে বহন করতে হবে। 

কেন ঝাড়খণ্ডে বিদ্যুৎকেন্দ্র? কমিটি প্রশ্ন তুলেছে, কেন বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন না করে ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় কেন্দ্রটি করা হলো? অস্ট্রেলিয়া বা ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা এনে ঝাড়খণ্ডে পুড়িয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অযৌক্তিক। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (বিপিডিবি) আলোচনার কোনও নথিপত্র পাওয়া যায়নি। 

কমিটির প্রধান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “বল এখন বিদ্যুৎ বিভাগের কোর্টে। মামলার বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেহেতু বর্তমান সরকারের সময় কম, আমরা চাইবো পরবর্তী সরকারও যেন এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেয়।” বিলম্ব করলে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কমিটি। 

এদিকে এক বিবৃতিতে আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন বা এ সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ তাদের সঙ্গে করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি অনুরোধ করেছে, বড় অঙ্কের বকেয়া থাকা সত্ত্বেও তারা বাংলাদেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। তবে বকেয়া দ্রুত পরিশোধ না হলে কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে। 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে এই ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যারা গত ২০ জানুয়ারি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।