অলস পড়ে আছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, আরও নির্মাণের পরিকল্পনা কেন

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রকৃত চাহিদার মাঝে বড় ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ঘোষিত বাজেটে নতুন ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯৯১ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) হিসাব অনুযায়ী সর্বোচ্চ চাহিদা দিন ও রাত মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার ৩১০ মেগাওয়াট। এমনকি সরকারের আগের প্রক্ষেপণেও সর্বোচ্চ চাহিদা ১৬ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের মধ্যে সীমিত থাকার কথা বলা হয়েছে। ফলে সরল হিসাবেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উৎপাদন সক্ষমতা অলস পড়ে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে দেওয়া বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘‘অতীতে অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ফলে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এতে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ বাড়তি অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা ভর্তুকির চাপ বাড়িয়েছে।’’

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে বার্ষিক ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বিদ্যমান কিছু মেগা প্রকল্পে একতরফা ও বিতর্কিত শর্ত যুক্ত থাকায় বিদ্যুৎ আমদানি ও ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, চাহিদার তুলনায় সক্ষমতা বেশি থাকা সত্ত্বেও নতুন কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা থাকায় ভবিষ্যতে আরও আর্থিক চাপ বাড়তে পারে কিনা—এ নিয়েও নীতিগত বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বি ডি রহমতুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে গ্রাহকের সেবা দেওয়ার চেয়ে বেশি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র বানানো গেলে সব সরকারের লাভ হয়। তাই সবাই সঞ্চালন ও বিতরণে টাকা না দিয়ে কেন্দ্র বানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম নাই।’’ তিনি বলেন, ‘‘আগের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জের খেসারত দিচ্ছে জনগণ বাড়তি বিদ্যুৎ- বিল দিয়ে। আরও কেন্দ্র করা মানেই জনগণের বোঝা আরও বাড়ানো।’’