সকাল থেকে বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লেও সিএনজি পাম্পগুলোতে গ্যাসের সংকট এখনও কাটেনি। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকেই পাম্পগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ নেই। এতে করে ভোগান্তি বেড়েছে চালকের। যদিও আগের দিন বুধরাত রাতে কিছুটা গ্যাস পাওয়া গিয়েছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, তেজগাঁও আকিজ সিএনজি পাম্পে গ্যাস নেই বলে সাইনবোর্ড দেওয়া। তবে এলপিজি থাকায় এলপিজি ভার্সনের গাড়িতে দেওয়া হচ্ছে।
পাম্পের বিক্রয়কর্মী তারেক বলেন, “রাত সাড়ে ৯টার দিকে গ্যাসের সরবরাহ আসে। তখন আমরা গ্যাস দেওয়া শুরু করি। কিন্তু ভোর থেকে আর কোনও লাইনে গ্যাস নেই। এখন ১১টা বাজে এখনও নেই।” তিনি বলেন, “গ্যাস আসলে আমরা আবার দেওয়া শুরু করবো। তবে কখন আসবে তা তিনি জানেন না।”
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মালিবাগ, বাড্ডা, খিলক্ষেত, গাবতলি, মগবাজার কোনও পাম্পেই এখন গ্যাস নাই। তারাও রাত থেকে দিতে পেরেছেন।
এদিকে দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন খাতে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ (প্রেশার) না থাকায় জ্বালানি নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে যানবাহনকে। ফলে রাজধানীতে দেখা দিয়েছে সিএনজিচালিত বাস ও অটোরিকশার তীব্র সংকট, যা চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে সাধারণ যাত্রীদের।
চালকদের লোকসান ও দুর্ভোগ
প্রাইভেট কার চালক ইউনুস আলী বলেন, “পাম্পগুলোতে প্রেশার না থাকায় অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এতে কয়েক ট্রিপ দেওয়ার পর আবারও গ্যাস নেওয়ার জন্য পাম্পে এসে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে চালকদের।”
একজন সিএনজি অটোরিকশাচালক জানান, দিনের বড় অংশ পাম্পে দাঁড়িয়ে কাটায় রোজগার একবারে কমে গেছে। অথচ আয় কমলেও মালিককে দৈনিক নির্ধারিত জমা ঠিকই দিতে হচ্ছে, যা পরিবার চালানো কঠিন করে তুলেছে।
যাত্রীদের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ভাড়া
সড়কে বাস ও সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসায় গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও মিলছে না বাহন। বিকল্প হিসেবে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের গাড়ি পেতেও বিলম্ব হচ্ছে। এই সুযোগে অনেক সিএনজি অটোরিকশাচালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ফলে বিকল্প হিসেবে অনেক যাত্রী ভরসা করছেন মেট্রোরেলের ওপর।
বাসাবাড়ির গ্যাসের চাপ বেড়েছে
এদিকে গত কয়েকদিনের গ্যাসের তীব্র সঙ্কটের পর অবশেষে আজ বাসাবাড়ির গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে। গৃহিণীরা সকালে রান্নাও করেছেন ভালোমতোই। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এলএনজি সরবরাহ শুরু, কমতে পারে গ্যাস সংকট







