গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন

দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৪ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একই বৈঠকে ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি, ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ড্রাইভিং সিমুলেটর কেনা এবং ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার জন্য কারিগরি সহায়তা নেওয়ার প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনার আওতায় এ চুক্তি করা হবে।

এদিকে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) একটি প্রকল্পের আওতায় দেশের ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে একটি করে মোট ৪০টি ড্রাইভিং সিমুলেটর কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব যন্ত্র কেনা হবে।

ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা প্রকল্পের জন্যও কারিগরি সহায়তা নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির সাধারণ ঠিকাদার জাপানের এমএইচআইয়ের কাছ থেকে কারখানার দৈনন্দিন উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া হবে।

এ জন্য টেকনিক্যাল সার্ভিসের দ্বিতীয় ধাপের চুক্তির আওতায় একক উৎস নির্বাচন পদ্ধতিতে পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

তবে বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল এলএনজি আমদানি। জাতীয় স্বার্থ ও জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১৪ কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সরকারি ক্রয় আইন ও সরকারি ক্রয়বিধির সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করে এলএনজি আমদানির প্রস্তাবটি বৈঠকে উপস্থাপন করে।

কমিটির এসব সিদ্ধান্তের ফলে দেশে গ্যাস ও সার সরবরাহ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আধুনিক সরঞ্জাম যুক্ত করা এবং ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানার উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।