এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দিনের শুরুতে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও বিকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের ঘাটতি বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর চাহিদা এক লাফে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২০৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৪ হাজার ১৩৯ মেগাওয়াট। ফলে তখন লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৬৭ মেগাওয়াট। বিকেল ৫টায় চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৫০৪ মেগাওয়াটে। কিন্তু সরবরাহ কমে যায় ১৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে। এ সময় লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৮০৪ মেগাওয়াট।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটতি আরও বাড়ে। সন্ধ্যা ৬টায় ১৫ হাজার ২৩৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৩৪ মেগাওয়াটে। রাত ৮টায় লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৮৮৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ দুপুরের তুলনায় রাতে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটা বেড়ে যায়।
শান্তিনগরের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, ‘সন্ধ্যার পর একবার বিদ্যুৎ গেলে কিছুক্ষণ পর আবার আসে, আবার চলে যায়। গরমে বাসায় থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বাচ্চাদের পড়াশোনা ও ঘরের কাজও ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। এতটা লোডশেডিং এতদিন তো ছিল না।’
মিরপুরের আরাফ আলী বলেন, ‘সারাদিনের কাজ শেষে বাসায় ফিরে একটু স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ নেই। সন্ধ্যার পর কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গরমে ঘরে থাকা, রান্না করা, বাচ্চাদের পড়ানো সবকিছুতেই সমস্যা হচ্ছে।’
পিডিবি জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের চাহিদা থাকে ১৩০০-১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট, এর বিপরীতে বুধবার পর্যন্ত পাওয়া গেছে ৯৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। আজকের হিসেবে সঠিক হিসাব না পাওয়া গেলেও গ্যাসের সরবরাহ অনেকটাই কমে গেছে বলে জানিয়েছে তারা।
প্রসঙ্গত, এলএনজি কার্গো না থাকায় মহেশখালীর এক্সিলারেটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে বুধবার দুপুরের পর গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সামিটের টার্মিনাল থেকেই এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টায় জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ ছিল ২ হাজার ২৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া যায় ১ হাজার ৬২৮ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ৬৬১ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার দিকে এলএনজি সরবরাহ কমে ৫৬২ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। দেশীয় উৎস থেকে তখন সরবরাহ ছিল প্রায় ১ হাজার ৬২৭ মিলিয়ন ঘনফুট। এতে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস প্রবাহ কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ১৮৯ মিলিয়ন ঘনফুটে।
আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তা জানান, বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে এক্সিলারেটের টার্মিনালে থাকা এলএনজির শেষ মজুতও শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে টার্মিনালটি আর গ্যাস সরবরাহ করতে পারেনি। অন্যদিকে সামিটের টার্মিনাল চালু রয়েছে।
টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ আরও কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ফলে সন্ধ্যার পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে ঘাটতিও দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে, যার চাপ গিয়ে পড়ছে সাধারণ গ্রাহকের ওপর।









